তৃণমূলের একটা সাইড পচে গেছে পচা অংশ বাদ না দিলে ২৪ এ লড়াই কঠিন হবে, বিস্ফোরক তৃণমূল সাংসদ

আমাদের ভারত, ৩০ আগস্ট:
দলের একাধিক নেতা মন্ত্রীর দুর্নীতি নিয়ে এবার বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন খোদ তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ জহর সরকার। তার এই মন্তব্যে স্বভাবতই অস্বস্তিতে পড়েছে দল। তার স্পষ্ট বক্তব্য, তৃণমূলের একটা সাইড পঁচে গেছে। সেটাকে বাদ না দিলে ২৪-এ লড়াই করা কঠিন হবে।

তার কথায়, টিভিতে দেখা যাচ্ছে মানুষের টাকা লুট করে এক মন্ত্রী তার বান্ধবীকে অলংকৃত করছে, যা দেখে গা শিরশির করছে। এই পচা শরীর নিয়ে ২৪ এর ভোটের লড়াই করা মুশকিল হবে।

তৃণমূলের সাংসদ যখন এই কথা বলছেন, তখন মেয়ো রোডের মঞ্চে দাঁড়িয়ে সিবিআই ইডি তদন্তের ঘটনায় দিল্লিকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বারবার বোঝাতে চেয়েছেন এসব আসলে বিজেপির চক্রান্ত। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ওরা কি বলতে চাইছে? তৃণমূলের সবাই চোর? ববি চোর? অভিষেক চোর? আমি চোর?

মমতা যখন এই বিষয়ে এতটা আক্রমনাত্মক তখন একরকম উল্টো পথে হেঁটেছেন প্রাক্তন এই আমলা। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সরকারের সময়ে ঠোঁটকাটা হওয়ায় আমলা জোহর সরকারের সঙ্গে সংঘাত তৈরি হয়েছিল। এমনকি যখন দিল্লিতে তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রকে সচিব ছিলেন জহরবাবু, সেই সময়ও মণীশ তিওয়ারি, অরুণ জেটলিদের সঙ্গে তার সম্পর্ক খুব ভাল ছিল না।

আর এই পরিস্থিতিতে জহর সরকার যা বলেছেন তা বিস্ফোরণের নামান্তর। জহর বলেছেন, “ঘটনাটি যখন টিভিতে দেখলাম বিশ্বাসই করতে পারেনি। কারো বাড়ি থেকে এত টাকা বের হতে পারে, আমার কাছে আমাদের কাছে কল্পনার অতীত।” তাঁর কথায়, “আমার বাড়ির লোকেরা সাথে সাথে বললো তুমি রাজনীতি ছেড়ে দাও। আমার বন্ধুরা টিপ্পনি কাটছে, বলছে কিরে কত টাকা পেলি?”

ঠিক এক বছর আগে জহর সরকারকে রাজ্যসভায় মনোনীত করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীনেশ ত্রিবেদীর ছেড়ে যাওয়া শূন্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন জহর। তবে সূত্রের খবর, তাঁকে রাজ্যসভায় মনোনয়ন দেওয়ার ব্যাপারে বিশেষ উৎসাহী ছিলেন না অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়াও তৃণমূলে শামিল হলেও দল যে তাকে খুব একটা আলাপ আলোচনার জন্য ডাকে তাও নয়। তাই দলের একাংশের মতে, হতাশা থেকেই এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তিনি।

জহর স্পষ্টভাবেই বলেছেন, তৃণমূলের এক সাইড পঁচে গেছে। এই পঁচে যাওয়া শরীর নিয়ে ২৪ এর ভোটের লড়াই করা মুশকিল। দুর্নীতিগ্রস্তদের বাদ দিতে হবে। কিভাবে বাদ দেওয়া যাবে তা দলকে দেখতে হবে। ভাবমূর্তি ঠিক না হলে লড়াই করা যাবে না।

তৃণমূল সাংসদের এই কথা শুনে প্রশ্ন উঠছে, তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির যে অভিযোগ রয়েছে তা কি তিনি জানতেন না? তাতে তার বক্তব্য, “আমাদের বড় শত্রু কেন্দ্রের ফ্যাসিস্ট শক্তি। একুশের ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তাদের পরাস্ত করতে আমরা উৎসাহী হয়ে ছিলাম। সেই কারণেই তৃণমূলের সামিল হয়েছি।” তার কথা এখনই দল ছাড়ছি না। তাহলে বলা হবে মাথা গরম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *