সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ৭ জুলাই: প্রকাশ্যে দিবালোকে পর পর গুলি করে খুন করা হল এক ব্যক্তিকে। আহত আরও এক। পঞ্চায়েত ভোটের আগের দিন শুক্রবার সকাল ১১টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ থানার কালুপুর এলাকার। গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও একজন। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের নাম বিশ্বনাথ (৪৫)। বর্তমানে তিনি হাবড়ার বাসিন্দা। আহত ব্যক্তির নাম প্রতাপ মণ্ডল। তিনি বনগাঁর মধ্যবকচরা এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, এদিন সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ বনগাঁ থানার কালুপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ধর্মপুর এলাকায় রাস্তার ধারে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক ব্যক্তির মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন পথচলতি মানুষ। তার গোটা শরীর তখন রক্তে ভেসে যাচ্ছে। পাশেই পড়ে ছিল তার মোটর বাইকটি। একই সঙ্গে থাকা আরও এক ব্যক্তির পিঠে গুলি লাগে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনি কোনওরকমে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গিয়ে পাশের একটি বাড়ির গোয়ালঘরে আশ্রয় নেওয়ায় এই যাত্রায় বেঁচে যান। পরে স্থানীয়রা তাকে বনগাঁ হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে।
প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানতে পেরেছে, এরা জমি কেনাবেচা করেন। নিজেদের মধ্যে কোনও বিষয়ে বিবাদের জেরে একে অপরের উপর গুলি চালিয়েছে। কৃষ্ণ নামে তৃতীয় ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পলাতক। হাবড়া থেকে এরা কেন কালুপুর এলাকায় এসেছিল, কি কারণে এই খুন, পুলিশ তা তদন্ত করে দেখছে। তবে এই ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।
তৃণমূলের জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ”এর সঙ্গে বিজেপির অনেকে যুক্ত। বিজেপি কথায় কথায় সিবিআই তদন্তের দাবি করে, ওদের এটাও সিবিআই তদন্ত দাবি করা উচিত।”
অন্যদিকে বিজেপি বিধায়ক স্বপন মজুমদার বলেন, বৃহস্পতিবার আমাদের এক কর্মীর বাড়িতে বোমা, সাদা থান রেখে দিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। আজও তৃণমূলের নেতৃত্বরা বহিরাগত কিছু গুন্ডা বাহিনী এনে ওই গ্রামে রেখেছিল ভোট লুট করার জন্য। তারা নিজেরা নিজেরাই ঝামেলা করে গুলি চালিয়েছে। তাতে একজনের মৃত্যু হয়ে আর একজন আহত হয়ে বনগাঁ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গোটা রাজ্যে তৃণমূল এই ভাবে সন্ত্রাস চালাচ্ছে।

