অমরজিৎ দে, ঝাড়গ্রাম, ১৩ জুন:
বাড়ির গবাদিপশুর জন্য জঙ্গলে গাছের পাতা সংগ্রহ করতে গিয়ে সাতসকালে হাতির হানায় মৃত্যু হল মধ্যবয়সী এক ব্যক্তির। ঘটনায় উত্তেজনা ছড়াল ঝাড়গ্ৰাম জেলার কলাবনি অঞ্চলে। এই ঘটনায় বন দফতরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে ঝাড়গ্ৰাম থেকে লোধাশুলি যাওয়ার ৫নং রাজ্য সড়ক অবরোধ করলেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, রবিবার সকালে বাড়ির গবাদিপশুর জন্য কলাবনী লাগোয়া জঙ্গলে পাতা সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন বড়িয়া গ্রামের পাড়ু মাহাত। সেই সময় কিছু বুঝে উঠার আগেই হাতির একেবারে সম্মুখীন হয়ে পড়েন তিনি। তখন হাতি শুঁড় দিয়ে আছড় মারে। ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় ওই ব্যক্তির।

এই এলাকায় বার বার হাতির হানায় যেমন নষ্ট হচ্ছে চাষের ফসল, ভাঙ্গছে ঘরবাড়ি তার সঙ্গে হাতির হানায় মৃত্যু হচ্ছে সাধারণ মানুষের। এলাকাবাসীর অভিযোগ, লাগাতার হাতির এই আক্রমণ ঘটলেও বন দপ্তরের কোনও সদর্থক পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। তাই বন দফতরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে এদিন স্থানীয়রা অবরোধ করেন ঝাড়গ্ৰাম থেকে লোধাশুলি যাওয়ার রাজ্য সড়ক। পরে পুলিশ এসে বোঝানোর চেষ্টা করলেও প্রশাসনের সঠিক আশ্বাস ছাড়া অবরোধ তুলতে চান না এলাকাবাসী।
ঝাড়গ্ৰাম থেকে লোধাশুলি আসার পথে পাঁচ কিলোমিটার দূরে কলাবনী, শালবনি, ধিতখাম সহ একাধিক গ্রাম প্রায় জঙ্গল ঘেরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বেশ কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দিনের পর দিন নষ্ট করছে বনাঞ্চল। তার সঙ্গে এলাকায় হাতির একটি দল প্রায় স্থায়ী ভাবে বসবাস শুরু করেছে, কিন্তু হাতি গাইড করার জন্য বন দপ্তরের যেমন কোনও নজর নেই তেমন হাতির নিরিবিলি জায়গা ধংস করার জন্য নিয়মিতই মানুষের বসবাস স্থলে হানা দিচ্ছে। ফল স্বরূপ প্রাণহানি থেকে শুরু করে ফসল, ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। তাই আগামী দিনে বন দপ্তরের সঠিক পদক্ষেপের দাবিতে এদিন বিক্ষোভ দেখিয়ে পথ অবরোধ করেন কলাবনীর বাসিন্দারা।

