আমাদের ভারত, জলপাইগুড়ি, ৩০ অক্টোবর: অকাল দুর্গা পুজো হল জলপাইগুড়ি’র পাতকাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের মোড়ল পাড়ার সিদ্ধ বাড়িতে। একশো বছরের বেশি সময় ধরে প্রতিবছর লক্ষ্মী পুজোর পরের রবিবার এক দিনের দুর্গা পুজো হয়। একদিনেই নিয়ম মেনে বোধন এবং বিসর্জন হয়ে থাকে।
রবিবার দুপুর থেকে শুরু হয় পুজো। আর এই পুজোকে কেন্দ্র করে মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আসর বসল। দুর্গা পুজোর সময় বাড়িতে কেউ আসতে না পারলেও একদিনের দুর্গা পুজোয় সিদ্ধ বাড়ির পরিবার ও গ্রামে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সকলে একজোট হয় পুজোর সামিল হয়। সিদ্ধ বাড়ির পুজো বলা হলেও এখন সর্বজনীন পুজোয় হয়ে উঠেছে।

দেশ স্বাধীনের আগে এই পুজোর সূচনা করেছিলেন পাতকাটা এলাকার জমিদার বলে পরিচিত সিদ্ধনাথ রায়। কথিত আছে, দুর্গা পুজোর পর দেবী দুর্গা পরিবারকে নিয়ে কৈলাসের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। সেই সময় পাতকাটা গ্রামে রাত্রিবাস করেন। সিদ্ধ বাড়ির পরিবার স্বপ্নে তা দেখতে পায়। এরপর থেকে দুর্গা পুজোর সূচনা করে সিদ্ধ বাড়ি।
কবে পুজোর সূচনা হয়েছিল তা পরিস্কার না থাকলেও পরিবারের দাবি, একশো বছরের বেশি সময় থেকে এই পুজো হয়ে আসছে। সিদ্ধ বাড়ির পুরোহিত গৌতম ঘোষাল বলেন, “একশো বছরের পুরোনো এই দুর্গা পুজো। আমি প্রায় বারো বছর ধরে পুজো করে আসছি। একদিনেই ষষ্টী, সপ্তমী, অষ্টমী পুজো হবে। তারপর সন্ধি পুজোর পর নবমী ও দশমী পুজো হবে। বিকেলের মধ্যে পুজো সম্পূর্ণ হয়ে যাবে।”
সিদ্ধ বাড়ির সদস্য পুজো উদ্যোক্তা ভূপতি রায় বলেন, “দুর্গাদেবী পুজোর পর কৈলাসের যাওয়ার সময় এই এলাকায় রাত্রিবাস করেছিলেন সকলকে নিয়ে। এই কারণে পুজোর আয়োজন। আমার বাবা, ঠাকুরদারা পুজো করে এসেছেন। পুজোকে কেন্দ্র করে একদিনের মেলাও হবে।”
সিদ্ধ বাড়ির আর এক সদস্যা ডালিয়া রায় বলেন, “আমার বাবার বাড়ির পুজো। প্রতিবছর পুজোর সময় যে যেখানেই থাকে সকলে বাড়িতে চলে আসে। আমাদের পাশাপাশি গ্রামের সকলে চলে আসে। মেলা হয়, অনুষ্ঠান হয়।”

