বুধবার এসইউসিআই (সি)-র সর্বত্র ‘প্রতিবাদ দিবস’ পালনের ডাক

আমাদের ভারত, ২৪ মে: এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদীদের ওপর পুলিশের আচরণের প্রতিবাদে বুধবার এসইউসিআই (সি) রাজ্যের সর্বত্র ‘প্রতিবাদ দিবস’ পালনের ডাক দিয়েছে।

মঙ্গলবার এসইউসিআই (সি)-র রাজ্য সম্পাদক চণ্ডীদাস ভট্টাচার্য এ খবর জানিয়ে বলেন, “এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতির বিরুদ্ধে আজ এসইউসিআই (সি) রাজ্য কমিটির ডাকে বিকাশ ভবনে বিক্ষোভে পুলিশ মিছিলকারীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রতিবাদ করার অধিকার খর্ব করে ফুটপাথ থেকেই গ্রেপ্তার করতে থাকে। ৪৫ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় নিয়ে যায়, তাঁদের মধ্যে অন্যতম রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নভেন্দু পাল ও কমল সাঁই।

এর প্রতিবাদে করুণাময়ী মোড়ে রাস্তা অবরোধ হয় আধ ঘন্টার বেশি। নেতৃত্ব দেন প্রাক্তন সাংসদ ডাঃ তরুণ মণ্ডল, রাজ্য কমিটির সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য ও কলকাতা জেলা সম্পাদক সুব্রত গৌড়ী। বিকাশ ভবনে কোনো প্রতিনিধি দলকে যেতে দেওয়া হয়নি। স্মারকলিপি গ্রহণ করার সৎসাহস টুকুও হারিয়েছে এই সরকার। আগামীকাল সর্বত্র “প্রতিবাদ দিবস” পালন করা হবে। আন্দোলন চলতে থাকবে। শুধু এই দুর্নীতি নয় নার্সদের নিয়োগের ক্ষেত্রেও দুর্নীতির বিরুদ্ধেও আন্দোলন হবে।”

যে স্মারকলিপি আজ দলের তরফ থেকে দিতে চাওয়া হয়েছিল, সেটি ছিল পশ্চিমবঙ্গের বিদ্যালয় শিক্ষামন্ত্রীকে উদ্দেশ করে লেখা। দলের সম্পাদক চণ্ডীদাস ভট্টাচার্য্যর পাঠানো চিঠিতে লেখা, “এস এস সি-র উদ্যোগে বিভিন্ন স্তরের শিক্ষক এবং গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি শিক্ষাকর্মী নিয়োগে সাম্প্রতিক সময়ে যে দুর্নীতি এরাজ্যে হয়েছে তা পশ্চিমবঙ্গের যতটুকু সুনাম ছিল, তাকেও নষ্ট করেছে। “অতীতে চিরকুট দিয়ে নিয়োগ অথবা ৯৯ শতাংশ ভালোর মধ্যে মাত্র ১ শতাংশ ভুল” এই সমস্ত কথা মুখ্যমন্ত্রী বললেও বর্তমান দুর্নীতি যে অতীতের রেকর্ডকে ছাপিয়ে গেছে- তা মানুষের কাছে স্পষ্ট। আশ্চর্যের বিষয় হল, যেসমস্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম অভিযোগের তালিকায় আছে তাঁরা সকলে তদন্তে সাহায্য করছেন না, কেউ কেউ নানাভাবে তদন্ত এড়াতে চাইছেন বা ধামাচাপা দিতে চাইছেন।

এই অবস্থায় পশ্চিম বঙ্গবাসীর পক্ষ থেকে আমাদের দাবি,
১) আপনার মাধ্যমে সরকারের প্রধান হিসাবে মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে এই নিন্দনীয় ঘটনার স্পষ্ট স্বীকারোক্তি ও যথোপযুক্ত বিবৃতি চাই।
২) স্বচ্ছ তদন্তের স্বার্থে সরকারকে তদন্তকারীদের সংগে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে।
৩) দোষী ব্যক্তিরা যত প্রভাবশালী হোন না কেন তাঁদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
৪) বেআইনিভাবে নিযুক্ত সকলকে বরখাস্ত করতে হবে এবং এতদিন ধরে দেওয়া বেতনের টাকা ফিরত দিতে বাধ্য করতে হবে।
৫) মেধা তালিকাভুক্ত সকল চাকুরি প্রার্থীকে অবিলম্বে নিয়োগ করতে হবে এবং এবং যে ক’বছরের বেতন তাঁদের প্রাপ্য হওয়া উচিত ছিল তা দিতে হবে।
৬) ভবিষ্যতে যাতে কোনও রকম দুর্নীতি ঘটতে না পারে, তার জন্য কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *