আমাদের ভারত, বর্ধমান ও মুর্শিদাবাদ, ৫ নভেম্বর: কলকাতা থেকে পরিবারের এক সদস্যকে নিয়ে আসার পথে পাঁচজনের মৃত্যু। এই ঘটনায় শোকের ছায়া মুর্শিদাবাদ জেলার বড়ঞা থানা এলাকায়।
জানা গিয়েছে, পরিবারের রোজগেরে সদস্য রাসেল সেখ মুম্বইয়ে কর্মরত। তিনি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দমদম বিমানবন্দরে উড়ানে করে ফিরে আসেন। তাকেই আনতে গিয়েছিলেন পরিবারে সকল সদস্যরা। আর তাকে নিয়ে আসতে গিয়ে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় পরিবারের পাঁচজনের। বাকিরা আহত অবস্থায় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
দমদম বিমানবন্দর থেকে বলেরো গাড়িতে ফেরার পথে বর্ধমানে ডাম্পারের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে মৃত্যু হয় পরিবারের ৫ জনের। গুরুতর আহত হল গাড়িতে থাকা আরও ৫ জন যাত্রী। শুক্রবার সকালে ঘটনাটি ঘটে বর্ধমান কান্দি রাজ্য সড়কের উপর। বর্ধমানের কামনারা মোড়ের কাছে ঘটনার পর এলাকার বাসিন্দারা সকলকে উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার পাঁচজনকে মৃত ঘোষণা করে এবং পাঁচজনের চিকিৎসা শুরু করেন।

এই ঘটনায় মুর্শিদাবাদের কান্দি মহকুমা থানা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। এদিন পথ দুর্ঘটনায় আহত হন নিহতরা সকলেই মুর্শিদাবাদের বড়োয়া থানার এলাকার বদরপুর সদপাড়া এলাকার বাসিন্দা। এই ঘটনার সাথে সাথেই এলাকার বিধায়ক জীবন কৃষ্ণ সাহা পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সমস্ত ধরনের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন, মৃতদেহ ময়নাতদন্ত করে বাড়ি ফেরানোর ব্যবস্থা করেন। বিধায়ক জানিয়েছেন মৃতরা হলেন সায়ন শেখ (৩), সোনালী খাতুন (৯), শাহিনুর খাতুন (১৭), রাসেল শেখ, আরিয়ান শেখ (০৬)। আহতদের চিকিৎসা চলছে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে।
মৃতদের আত্মীয় আব্দুল আলিম মিঞা বলেন,
দিদির ছেলে মুম্বাইতে থাকে। তাকে আনার জন্য জামাইবাবু সহ পরিবারের অন্যান্যরা দমদম বিমানবন্দরে যায়। ফেরার পথে বর্ধমানের কামনাড়া এলাকায় ডাম্পারের সঙ্গে ধাক্কা লাগলে গাড়িটে উলটে যায়। জামাইবাবু সহ মোট পাঁচ জন মারা যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে তাদের অনুমান গাড়ির ড্রাইভারের চোখ লেগে যাওয়ার কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। তবে ডাম্পারটিকে ধরা যায়নি। কিভাবে দুর্ঘটনা ঘটলো সেটাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

