সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২৭ অক্টোবর: ভাই ফোঁটার দিনেই সরগরম হল ঝালদা। ঝালদা পৌরসভায় তৃণমূলের শক্ত খুঁটি ভেঙে গেল। অনাস্থার চিঠি দেওয়ার পরই তৃণমূল দল ও পদ ছাড়লেন ঝালদা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শীলা চ্যাটার্জি। আজ সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানালেন তাঁর পদত্যাগের কথা।
শীলা চ্যাটার্জি জানান, আমি নির্দল থেকে জয়ী হয়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করি এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে। দল আমাকে ঝালদা শহর সভানেত্রীর দায়িত্বও দেয়। কিন্তু ব্যক্তিগত কারণে তৃণমূল দল ও ঝালদা শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রীর পদ ত্যাগ করলাম। বিষয়টি লিখিতভাবে জেলা সভাপতিকেও জানিয়েছেন বলে দাবি তাঁর।
এদিন ঝালদা পৌরসভার অনাস্থার সমর্থন ও অন্য দলে যোগদান প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান তিনি। ১২ ওয়ার্ড বিশিষ্ট ঝালদা পৌরসভায় কংগ্রেসের পাঁচ ও একজন নির্দল প্রাথীর সমর্থনে অনাস্থার ডাক দেওয়া হয়েছে। ঠিক এরই মধ্যে একজন কাউন্সিলর তৃণমূলের পদ ও দলত্যাগে শোরগোল পড়ে যায় এলাকায়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী তৃণমূলের মোট কাউন্সিলর ৫ জন। অনাস্থার ডাক দিয়েছেন এক নির্দল সহ ৬ জন কংগ্রেস কাউন্সিলর। নির্দল শীলা চ্যাটার্জি তৃণমূল দল ও পদত্যাগ করাতে ভিত কেঁপে উঠেছে তৃণমূল দলের।

বিষয়টি নিয়ে ঝালদা শহর তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি চিরঞ্জীব চন্দ্র জানান, “এই বিষয়ে আমার কাছে কোনো খবর নেই। আমাকে কেউ এবিষয়ে লিখিত বা মৌখিক জানাননি। তাই বিষয়টি নিয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।” প্রসঙ্গত, দলের এই পদাধিকারীর সঙ্গে মতান্তর রয়েছে শীলার। বিরোধ চরমে উঠে।

জেলা কংগ্রেস সভাপতি নেপাল মাহাতো জানান, “আশ্চর্যজনক ঘটনা ভোটের ফলাফল প্রকাশের পরেই ঝালদা থানার আইসি ও তৃণমূলের চাপে যোগদান করেছিলেন শীলা চ্যাটার্জি। যাইহোক তিনি আজ তৃণমূল দলের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। এখন শীলা চ্যাটার্জি নির্দল কাউন্সিলর। তাই পরিষ্কার হল এবার অনাস্থার সমর্থনের বিষয়টি। এদিন এই পরিস্থিতিতে তাদের উপর প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন কংগ্রেসের জেলা সভাপতি। তবে, এবার চাপ সৃষ্টি হলে তাঁরাও পাল্টা চাপ দেবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন।
এদিন বিকেলে তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি সৌমেন বেলথরিয়া বলেন, “বিষয়টি আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখলাম। আমার কাছে শীলা চ্যাটার্জির পদত্যাগ পত্র আসেনি। এলে দলীয় ভাবে আলোচনা করব।”

