স্বরূপ দত্ত, উত্তর দিনাজপুর, ৫ মে: বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে শুক্রবার থেকে উত্তর দিনাজপুরের ইটাহার ব্লকের হাঁসুয়া গ্রামে শুরু হল ঐতিহ্যবাহী স্বামীনাথের মেলা। দুর্গাপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রতিবছর এইদিনে বিরাট মেলা বসে। এদিনও প্রথম দিনেই হাজার হাজার ভক্তের সমাগমে জমে উঠেছে মন্দির প্রাঙ্গণ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় চারশো বছর আগে এই মেলার প্রচলন করেছিলেন তৎকালীন ভূপালপুরের দোর্দণ্ডপ্রতাপ জমিদার ভূপাল রায়চৌধুরী৷ এরপর বাংলার প্রায় একশো বছর আগে ১৩২১ সালে ২৫ শে বৈশাখ মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন পরিবারের সদস্যা দুর্গাময়ী রায়চৌধুরী। বর্তমানে জমিদারি প্রথা না থাকলেও রয়েছেন তার বংশধরেরা৷ আর তারাই দীর্ঘদিন এই পুজো ও মেলার প্রচলন করে আসছেন মহাসাড়ম্বরে৷ ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এখানে পুজিত হন স্বামীনাথ হিসেবে৷ এছাড়াও অন্যান্য দেবদেবীর বিগ্রহও রয়েছে এই প্রাচীণ মন্দিরে।

জমিদারের উত্তরসূরীরা মেলায় নানান অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকেন। চারদিন ধরে চলে এই মেলা। উত্তর, দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদা জেলার বহু মানুষ এই স্বামীনাথ মেলায় বেড়াতে আসেন প্রতিবছর৷ এবারেও সকাল থেকেই মন্দিরের দরজা খুলে দেওয়া হয় ভক্তদের জন্য। চলে পুজো পাঠ৷ আগত ভক্তবৃন্দদের জন্য নরনারায়ণ সেবারও ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। মেলাতে বসেছে জিভে জল আনা বিভিন্ন খাবার ও মণিহারি দোকান।

মেলায় আসা সাধারণ মানুষের বক্তব্য, বহুকাল থেকেই স্বামীনাথ মেলা হয়ে আসছে এখানে। প্রতিবছর কাজের মাঝেও তাই মেলায় বেড়াতে আসেন তারা। জমিদারের বর্তমান বংশধর পার্থ রায়চৌধুরী বলেন, হাঁসুয়া মেলা প্রাচীন পুজো। প্রচুর মানুষের আবেগ জড়িয়ে রয়েছে এই মেলার সঙ্গে। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসতে শুরু করেন। আগে চূড়ামূণ ছিল মূল ভিত্তি। সেখান থেকে পরবর্তীতে রাজবাড়ি এখানে স্থানান্তরিত হয়।

