রথের দিন মায়াপুরে জগন্নাথের মাসির বাড়িতে আপ্যায়নে ১৫৬ ভোগের ডালি

স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ৯ জুলাই: রথের দিন জগন্নাথদেব, বলরাম ও সুভদ্রাকে সঙ্গে নিয়ে যাত্রা করেন মাসির বাড়ি। এ ক’দিন তিনি সেখানেই থাকবেন, কারণ মাসির বাড়ির খাতিরযত্ন তার খুব ভালোই লাগে। সেইজন্য প্রতিবছর এই সময় মাসির বাড়ি যাওয়ার জন্য উৎসবে সেজে ওঠে মায়াপুর চত্বর। তার খ্যাতি জগৎ জুড়ে, তিনি খাদ্যরসিক দেবতা। সেই জন্যেই তার সামনে রোজ একশো ছাপান্ন রকমের ভোগ ডালি সাজিয়ে দেওয়া হয়। সেই ভোগ গিয়ে দাঁড়ায় ১৫৬ ভোগে। সোজা রথ থেকে উল্টো রথ পর্যন্ত আট দিন ধরে মাসির বাড়িতেই জগন্নাথদেবকে দেশী-বিদেশী পদ সাজিয়ে দেওয়া হয়।

তাঁর খাবারের তালিকায় থাকবে, পাস্তা থেকে শুরু করে পরমান্ন। এছাড়াও আছে চাপাটি, পিৎজা, কেক, কচুরি, পানতুয়া সহ আরও কতোকি। অন্নের যে কতরকম পদ হয় তা জগন্নাথদেবের খাদ্যতালিকা না দেখলে বোঝা যাবে না, সাদা অন্ন, পুস্পান্ন, সবজি পোলাও, জিরা রাইস, নারকেল রাইস, তেতুল রাইস, দই ভাত, ফ্রায়েড রাইস, লেমন রাইস মিক্সড ভেজ রাইস আরও কতোকি। আবার রুটির মধ্যে থাকে, চাপাটি, গমের রুটি, সেঁকা রুটি, ডালের রুটি, ভাপা রুটি, দই চাপাটি, আলুর পরোটা, ফুলকপির পরোটা, মশলা পরোটা, ভাজাপুরি, ডালপুরি, কলাপুরি, রাধাবল্লভী ইত্যাদি। আবার ডালের মধ্যে থাকে, সম্বর ডাল, টম্যাটোর ডাল, পালং ডাল, টক ডাল, তেতো ডাল ইত্যাদি। মিস্টির মধ্যে থাকে, পান্তুয়া, রসগোল্লা, রাজভোগ, সরপুরিয়া, কালাকাঁদ ইত্যাদি। তার খাবারের তালিকা দেখতে ভিড় হয় বহু ভক্তের। ভোর সাড়ে চারটে থেকে তার ভোগ রান্না শুরু হয়ে যায়, শেষ হতে হতে বেলা এগারোটা বেজে যায়। তার পর এক একটি পাত্রে সাজিয়ে দেওয়া হয় সমস্ত পদ। তার পর শুরু হয় নামসংকৃর্ত্তীন, তাতে মেতে ওঠে দেশ-বিদেশের বহু
ভক্ত।

মায়াপুর ইস্কন মন্দিরের জনসংযোগ আধিকারিক রমেশ দাস বলেন, “এ’কদিন ধরে জগন্নাথ দেবকে একশো ছাপান্ন রকমের ভোগ দেওয়া হয়। ভোগের রান্নাবান্না করার জন্য ইস্কনের মূল মন্দিরের উল্টদিকের মাঠে বিরাট মন্ডপ নির্মাণ করা হয়েছে, সেখানেই কয়েকশো মাটির হাঁড়িতে ভোগ নিবেদন করা হচ্ছে। ভোর সাড়ে চারটে থেকে রান্নার কাজ শুরু হয় বেলা এগারোটা পর্যন্ত রান্নার কাজ চলে। দেশ-বিদেশের বহু ভক্তরা তাতে অংশগ্রহণ করে”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *