আমাদের ভারত, ১৫ সেপ্টেম্বর: কেন কলকাতায় বিদ্যুৎ বন্টনে একটি বেসরকারি সংস্থাকে একচেটিয়া ব্যবসার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে? এই প্রশ্ন তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়েছেন কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রী রাজকুমার সিং। কলকাতা ও হাওড়ার শহরে একটি বেসরকারি সংস্থা বিদ্যুৎ সরবরাহ করে যার গ্রাহক সংখ্যা ৪০ লাখের কিছু বেশি। কেন সেখানে প্রতিযোগিতার সুযোগ রাখা হচ্ছে না? অন্য সংস্থা প্রতিযোগিতায় নামার সুযোগ পেলে বিদ্যুৎ মাসুল কমবে বলে মত কেন্দ্রের।
মমতাকে লেখা চিঠিতে রাজকুমার জানিয়েছেন, কলকাতায় যে বেসরকারি সংস্থা বিদ্যুৎ বন্টন করে তারা দেশের মধ্যে চড়া হারে মাশুল আদায়কারী সংস্থাগুলির মধ্যে অন্যতম। কলকাতায় তাদের একচেটিয়া কারবার। বিদ্যুৎ আইন সংশোধন করে কেন্দ্র বিদ্যুৎ বন্টনে প্রতিযোগিতা নিয়ে আসতে চায়। একটি সংস্থাকে নির্দিষ্ট এলাকায় বিদ্যুৎ বন্টন এর লাইসেন্স দেওয়ার প্রথা সেক্ষেত্রে উঠে যাবে। যে সংস্থা কম মাসুলে বিদ্যুৎ এবং ভালো পরিষেবা দেবে মানুষ তাদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ নিতে পারবেন। এর ফলে কলকাতার ঐ সংস্থাও প্রতিযোগিতার মুখে পড়বেন। রাজকুমার লিখেছেন, কেন মুখ্যমন্ত্রী এই বেসরকারি সংস্থাকে প্রতিযোগিতা থেকে বাঁচাতে চাইছেন তা স্পষ্ট নয়। বিদ্যুৎ মন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, “দেখা যাচ্ছে আপনার অফিসাররা আপনাকে ঠিকমত ব্যাখ্যা করেনি।”
কলকাতা ও হাওড়ার শহরে একটি বেসরকারি সংস্থা বিদ্যুৎ সরবরাহ করে যার গ্রাহক সংখ্যা ৪০ লাখের কিছু বেশি। পাশাপাশি সরকার নিয়ন্ত্রিত বিদ্যুৎ সংস্থা সারা রাজ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে ২ কোটির বেশি গ্রাহককে। অর্থাৎ রাজ্য কোনও বেসরকারি সংস্থাকে একচেটিয়া ব্যবসায় মদত দিচ্ছে এই ধারণা ভ্রান্ত বলে দাবি রাজ্য প্রশাসনের একাংশের।
গত বছর থেকেই মোদী সরকার বিদ্যুৎ আইন সংশোধনে উদ্যোগী। সেই সময় বিদ্যুৎ আইন সংশোধনী বিলে আপত্তি জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গ অভিযোগ তুলেছিল শিল্পপতিদের স্বার্থে নতুন আইন আনা হচ্ছে। অন্যান্য রাজ্যও এতে আপত্তি তোলে। ২০২১ সালের খসড়া বিলের নতুন সংশোধনী বিল এনেছে কেন্দ্র। তার বিরোধিতা করে গত মাসে মুখ্যমন্ত্রী চিঠি লেখেন নরেন্দ্র মোদীকে। তার পাল্টা জবাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানিয়েছেন নতুন যে সংশোধনী বিল নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে গতবছরের বিলের থেকে তা অনেকটাই আলাদা।
মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে অভিযোগ জানিয়েছিলেন বিদ্যুৎ পরিষেবা সংবিধানের যৌথ তালিকাভুক্ত বিষয়। রাজ্যগুলির সঙ্গে আলোচনা না করেই এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো বিরুদ্ধে। বিদ্যুৎ মন্ত্রী এক্ষেত্রে যুক্তি দিয়ে লিখেছেন রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা হয়নি বলা ভুল। রাজ্যের মতামত জানতে বিল পাঠানো হয়েছে। অঞ্চল ধরে ধরে রাজ্যগুলির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
কেন্দ্রের এই আইনের কারণে বিদ্যুতের মাশুল বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তার পাল্টা যুক্তিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, কেন্দ্র যে নতুন বিল আনতে চাইছে তাতে বিদ্যুৎ বন্টনের পরিকাঠামো তৈরিতে এই ব্যবসায় থাকা সংস্থাকে দায়িত্ব না নিলেও চলবে। তার বদলে শুধু চলতি দরে বন্টন সংস্থার কাছ থেকে বিদ্যুৎ কিনে নিজেদের মুনাফা রেখে গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করবে তারা। এছাড়াও কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রী জানিয়েছেন রাজ্য বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কমিশন মাসুলের উর্ধ্বসীমা বেঁধে দেবে। ফলে মাশুল বেড়ে যাওয়ার কোনো প্রশ্ন নেই। কমিশনের ক্ষমতাও ছাঁটাই করা হচ্ছে না বরং বিদ্যুৎ বন্টনের প্রতিযোগিতার আবহ তৈরি হলে মাশুল কমবে। এক্ষেত্রে কেন্দ্রের অভিযোগ, একচেটিয়া ব্যবসার বোঝা মানুষকে বইতে হয়। কলকাতার চড়া বিদ্যুৎ মাশুল তার উদাহরণ।

