সাথী দাস, পুরুলিয়া, ৬ মার্চ: পুরুলিয়ায় শিক্ষাভ্রমণে এসে শবর, বীরহোড় পড়ুয়ারা চাক্ষুস করল বিজ্ঞানের আধুনিক রূপ। সৌজন্যে পুরুলিয়া জেলা বিজ্ঞান কেন্দ্র।এদের অধিকাংশই প্রথম প্রজন্মের পড়ুয়া। অনেকেই জেলা সদর শহর পর্যন্ত দেখেনি। সেই সব পিছিয়ে থাকা দু:স্থ জনজাতি গোষ্ঠীর পড়ুয়াদের এবার বিজ্ঞান সংগ্রহশালা চাক্ষুস করার সুযোগ করে দিল পুরুলিয়া জেলা বিজ্ঞান কেন্দ্র।

পুরুলিয়া ১ ব্লকের অকড়বাইদ গ্রামের ২৬ জন শবর সম্প্রদায়ভুক্ত এবং বলরামপুরের ১৪ জন বীরহোড় ছাত্র ছাত্রীকে শিক্ষামূলক ভ্রমণে বাড়ি থেকে আনা হয়েছিল।
দিনভর বিজ্ঞান কেন্দ্রের বিভিন্ন বিভাগ প্রদর্শন করা হল। উদ্ভাবনী শক্তি কেন্দ্রে তাদের সঙ্গে আলোচনামূলক আদান প্রদানের মাধ্যমে তাদের বিজ্ঞানে অনুপ্রাণিত করার চেষ্টা করা হল। উদ্দেশ্য তাদের নানান হাতের কাজ শিখিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। তাদের উৎসাহ দিতে সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম বঙ্গ খেড়িয়া শবর কল্যাণ সমিতির নির্দেশক প্রশান্ত রক্ষিত, অধ্যাপক জয়ন্ত হাজরা, সমাজসেবী সপ্তর্ষি বৈশ্য প্রমুখ ব্যক্তিত্ব।
জেলা বিজ্ঞান কেন্দ্রের আধিকারিক ধ্রুব জ্যোতি চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আগামী দিনে এই সব ছাত্র ছাত্রীদের বিজ্ঞান কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বিড়লা মিউজিয়ামের নির্দেশক ভি এস রামচন্দ্রন সব ছাত্র ছাত্রীদের নিখরচায় বিজ্ঞান কেন্দ্র ঘোরার এবং খাবারের ব্যবস্থা করেন।”

পুরুলিয়া জেলার বিভিন্ন ব্লক এলাকায় এক প্রান্তে বেড়ে উঠছে এই সব সুপ্ত প্রতিভার ছেলে-মেয়ে। এদের এক অভিনব সুযোগ করে দিল জেলা বিজ্ঞান কেন্দ্র বলে জানান প্রশান্ত রক্ষিত।
প্রায় চার দশক আগে স্থাপিত জেলা বিজ্ঞান কেন্দ্র। অথচ, চাক্ষুসের সৌভাগ্য হয়নি এই সব পিছিয়ে থাকা জনজাতির। একরাশ বিস্ময় নিয়ে বিজ্ঞান কেন্দ্রে এসে মেতে উঠল ওরা। ডাইনোসরদের নানা প্রজাতির মডেল নিয়ে গড়ে তোলা পার্ক, মজাদার বিজ্ঞান গ্যালারি সহ নানা মডেল ও গ্যালারি ঘুরে মজার সঙ্গে শিক্ষাগ্রহণ করল তারা। এছাড়া থ্রিডি সিনেমার মাধ্যমে জঙ্গল সাফারি সম্পর্কে জানল ওরা। শিক্ষামূলক এই ভ্রমণ উপভোগ্য হয়ে উঠল ওদের কাছে।

