সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৩ আগস্ট: পরিবহনের বকেয়া টাকার দাবিতে বড়জোড়ায় অবরোধের জেরে কয়লাখনির মূল প্রবেশদ্বার ও বাঁকুড়া দুর্গাপুর ৯নং রাজ্য সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। বড়জোড়া থানার আইসি’র হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। ট্রান্স দামোদর খোলামুখ খনির কয়লা পরিবহন সংস্থা ট্রান্স দামোদর ট্রান্সপোর্ট ওয়েলফেয়ার সোসাইটির ডাকে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। বিক্ষোভ করার আগে কোলিয়ারি কর্তৃপক্ষ দুর্গাপুর প্রজেক্ট লিমিটেডকে তাদের বকেয়া পরিবহনের টাকা মিটিয়ে দেওয়ার জন্য লিখিত ভাবে জানিয়েছিলেন পরিবহন সংস্থার কর্তারা। তাদের দেওয়া সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও তাদের বকেয়া না মেটানোর জন্যই এই বিক্ষোভ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে জানান ট্রান্স দামোদর ট্রান্সপোর্ট ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সম্পাদক অশোক ব্যানার্জি।

তিনি বলেন, কোলিয়ারি কর্তৃপক্ষ তাদের কর্মী ও আধিকারিকদের মাসের ১ তারিখ হলেই তাদের মাইনে দিয়ে দেন। আমাদের গাড়ির চালক খালাসিরাও তো তাই আশা করে। পাশাপাশি এখানে যারা কয়লা উত্তোলনকারী ঠিকা সংস্থার কর্মী তারাও মাসের ১০ তারিখের মধ্যে তাদের মাস মাইনে পেয়ে পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে পারেন। কিন্তু এখানে সেদিকে নজর নেই কর্তৃপক্ষের। নিজেদের সমস্যা মিটে গেলেই হলো।
অশোক ব্যানার্জির দাবি, জুন মাসের পরিবহন বাবদ পাওনা টাকা এখনও মেটায়নি। আমরা কর্মীদের মাইনে দিতে পারছি না। গাড়ির খরচ বাবদ সংশ্লিষ্ট তেল, পাম্প, গ্যারাজ, স্পেয়ার পার্টস দোকানের ধার মেটাতেও পারছি না। সবাই আমাদের তাগাদা দিচ্ছে। কর্তৃপক্ষকে বারবার বললেও কাজ হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে রাস্তার উপর বসে প্রতিবাদ করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, বড়জোড়ার আইসি আশ্বাস দিয়েছেন, ২ দিনের মধ্যে ডিপিএল কর্তৃপক্ষ ও কয়লা উত্তোলনকারী সংস্থার কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করা হবে। তাই তারা এদিন আন্দোলন থেকে সরে এলেও বকেয়া সমস্ত পাওনা না মেটালে ফের বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন।

