নীল বনিক, আমাদের ভারত, নদিয়া, ৯ মে: টানা লকডাউনে সবথেকে অসুবিধেয় পড়েছে দুধের শিশুরা। বর্তমান কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকার মানুষের মুখে অন্ন তুলে দিতে রেশনিং ব্যাবস্থা চালু করেছে। কিন্তু কোনও সরকার দুধের শিশুদের কথা ভাবার সময় পায়নি। তাই কাজ হারানো শ্রমিকদের সন্তানদের দুধের ব্যাবস্থা করতে গিয়ে কালঘাম ছুটেছে। অনেক অসংগঠিত শ্রমিক তাদের সন্তানদের দুধের বদলে ভাতের ফ্যান তুলে দিচ্ছেন। অমানবিক এমন খবর কানে পৌছতেই নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জ থানার ওসি শিশুদের জন্য নিজের উদ্যোগেই দুধের ব্যাবস্থা করেন।

কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকের সীমান্ত লাগোয়া নোনাগঞ্জ গ্রাম। যে গ্রামে মোট ৯২টি আদিবাসী পরিবার বসবাস করেন। লকডাউনে কাজ হারানো বাবা, মায়েরা তাদের শিশুদের দুধের ব্যাবস্থা করতে পারছিলেন না। খবরটা ওসি রাজশেখর পালের কানে পৌছতেই ঘটনার খোঁজখবর নিতে শুরু করেন। সারাদিন আইনের কচকচানির মধ্যেও শিশুদের কথা ভাবতে শুরু করেন। তারপরেই শনিবার সীমান্তবর্তী গ্রামে গিয়ে শিশুদের জন্য বেবি ফুডের ব্যাস্থা করেন। প্রত্যেক শিশুদের জন্য বেবি ফুড দেন রাজশেখরবাবু। এমনকি গ্রামের বয়স্ক বাসিন্দাদের তিনি হেল্থ ড্রিংক হিদাবে হরলিকস দেন। এদিন কৃষ্ণগঞ্জ থানার ওসির মানবিক কাজের সাক্ষী ছিলেন কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার ডিএসপি হেডকোয়ার্টার কৌশিক বসাক। সংবাদ মাধ্যমের কাছে সারাসরি কিছু না জানালেও ওসি রাজশেখর পালের মানবিকতার মুখ দেখে মুগ্ধ তিনি। এছাড়াও ছিলেন কৃষ্ণগঞ্জের সিআই নিহার রঞ্জন রায়।
এব্যাপারে ওসি রাজশেখর পাল নিজেও সংবাদ মাধ্যমের কাছে কিছু বলতে রাজি হয়নি। তবে তার সহাস্য জবাব “আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে”। আমার থানার সব শিশুরাই ভালো থাকুক আমি তাই চাই।

