বিবাহিত নন! কেন সংসদে মিথ্যে শপথবাক্য পাঠ করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ নুসরত? কটাক্ষ বিজেপির

আমাদের ভারত, ১০ জুন: তিনি সন্তানসম্ভবা। অথচ বলছেন বিবাহিত নন। নিখিল জৈনের সঙ্গে নাকি তিনি লিভইনে ছিলেন। সেই সম্পর্কেরও ইতি হয়ে গেছে। তিনি এখন যশ দাশগুপ্তের প্রেমিকা। তৃণমূল সাংসদ অভিনেত্রী নুসরাতের এমনই অজস্র ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে বেশকিছুদিন নেট দুনিয়া উথাল-পাথাল হয়েছে। কিন্তু এবার তার বিরুদ্ধে জনপ্রতিনিধি হিসেবে মিথ্যাচারের অভিযোগ উঠল। সেটাও তার দেওয়া বিবৃতিকে কেন্দ্র করেই। প্রশ্ন উঠেছে আজ তিনি নিজেকে অবিবাহিত বলে দাবি করছেন। কিন্তু তিনি ভারতের জনপ্রতিনিধি হিসেবে যখন শপথ নেন তখন তিনি নিজেকে বিবাহিত বলেই পরিচিতি দিয়েছিলেন।

ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা বিতর্কের মধ্যে বুধবার মুখ খোলেন তৃণমূল সাংসদ অভিনেত্রী নুসরাত জাহান। বিবৃতি দিয়ে জানান তিনি বিবাহিত নন। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন তার বিয়ে হয়েছিল তুরস্কের রীতিনীতি মেনে। কোথাও আইনি মতে তার বিবাহ হয়নি। ফলে বিচ্ছেদের প্রশ্ন নেই। এমনকি স্পষ্ট করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে তিনি লিভি ইনের সম্পর্কে ছিলেন নিখিল জৈনের সঙ্গে।

কিন্তু এই বিবৃতি আজ বুমেরাং হয়েছে তার ক্ষেত্রে। এবার তার বিরুদ্ধে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তাহলে তিনি ভারতবর্ষের সংংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার সময় নিজেকে কেন বিবাহিত হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন? তিনি তাহলে মিথ্যাচার করেছেন। ফলে এতদিন তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা প্রশ্নের ঝড় উঠলেও এবার তৃণমূল সাংসদ নুসরাত মিথ্যা কথা বলেছেন বলে কটাক্ষ করছেন বিজেপি আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্যর।

শুধু বিজেপি নেতার অভিযোগ নয় সোশ্যাল মিডিয়ার পেজ ভরে গেছে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের একাধিক ছবিতে। সেখানে সদ্যবিবাহিতা নুসরাত সংসদে গিয়ে শপথ নিয়েছিলেন। ভিডিওতে স্পষ্ট ধরা পড়েছিল হাতের মেহেন্দি চূড়া। সেখানে দাঁড়িয়ে তিনি নিজেকে বিবাহিতা হিসেবে পরিচয় দেন। নিজের নাম বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমি নুসরাত জাহান রুহি জৈন”। এমনকি সংসদের নথিতেও স্পষ্ট ভাষায় সেটাই লেখা রয়েছে। লেখা রয়েছে স্বামীর নাম।

বিজেপি নেতা অমিত মালব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় নুসরাতের শপথের ভিডিও তুলে ধরে লিখেছেন, নুসরাতের ব্যক্তিগত জীবনে সে কাকে বিয়ে করেছে বা করেনি তা নিয়ে কারও মাথাব্যাথা নেই। তবে নির্বাচনে জেতার পর তিনি সংসদ ভবনের যখন গিয়ে শপথ গ্রহণ করেন ঠিক তখনই তিনি জানান তিনি বিবাহিত। তবে কি তিনি সংসদ ভবনে দাঁড়িয়ে মিথ্যা কথা বলেছেন? একই প্রশ্নের ঝড় উঠেছে নেট পাড়াতেও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *