কল্যাণীতে এনএসএস-এর পূর্বাঞ্চলীয় শিবির শুরু

অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, ১৭ নভেম্বর: বৃহস্পতিবার কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হল জাতীয় সেবা প্রকল্প অর্থাৎ ন্যাশনাল সার্ভিস স্কিমের (এনএসএস) পূর্বাঞ্চলীয় শিবির। চলবে ১০ দিন।

প্রাক প্রজাতন্ত্র দিবস কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বাবা সাহেব অম্বেদকর এডুকেশন ইউনিভার্সিটি অর্থাৎ বিএসএইইউ (পূর্বতন ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি অফ টিচার্স ট্রেনিং, এডুকেশন, প্ল্যানিং অ্যান্ড এডমিনিস্ট্রেশন)- এর উপাচার্য ডঃ সোমা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, শিবিরে অংশ নিতে সমগ্র পূর্ব অঞ্চল থেকে ২১০ জন স্বেচ্ছাসেবক বাছাই করা হয়েছে। এখানে অংশগ্রহণকারীরা একে অপরের সংস্কৃতি, ভাষা, ঐতিহ্য এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বৃদ্ধির মত বিনিময় সম্পর্কে আরও জানতে পারবেন।

এপিজে আব্দুল কালাম অডিটোরিয়ামে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় ও এনএসএস আঞ্চলিক ডাইরেক্টোরেটের যৌথ আয়োজনে এই অনুষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডঃ মানস কুমার সান্যাল। উদ্বোধনী ভাষণে তিনি জাতীয় সেবা প্রকল্পের গুরুত্ব ও উপযোগিতার কথা বলেন। স্বাগত ভাষণ দেন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রার দেবাংশু রায়।

শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, সারা দেশেই খুব কম কলেজে এনএসএস চালু আছে। ২০০৮-এর ২৭ আগস্ট কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে পরিসংখ্যান দিয়ে দিয়ে তৎকালীন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “সারা দেশে অর্ধেক কলেজেও জাতীয় সেবা প্রকল্প চালু নেই। এটা খুবই দুঃখের।” এর পরেই রাজ্যের কলেজগুলির প্রসঙ্গ তোলেন মন্ত্রী। বলেন, “অধ্যক্ষদের জানানো হবে, তাঁরা যেন এই প্রকল্পকে জীবনের একটা অঙ্গ হিসেবে দেখেন। অধ্যক্ষদের সে-কথা জানাবেন উচ্চশিক্ষা সচিব বিবেক কুমার।” এই প্রকল্পে ছাত্রছাত্রীদের আগ্রহ বাড়াতে শিক্ষকদেরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে সেই অনুষ্ঠানে আহ্বান জানান পার্থবাবু। তাঁর বিশ্বাস, শিক্ষক-শিক্ষিকারা উদ্বুদ্ধ করলে ছাত্রছাত্রীরা এই সেবামূলক প্রকল্পে যোগ দিতে অবশ্যই উৎসাহিত হবেন। পড়ুয়াদের উৎসাহিত করার জন্য তাই শিক্ষকদের এগিয়ে আসতে হবে।

সে বছর জাতীয় সেবা প্রকল্প সব থেকে ভালোভাবে রূপায়ণ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের পুরস্কার পেয়েছিল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। এই প্রকল্পের আকর্ষণ বাড়ানোর জন্য এনএসএস কোটায় ছাত্র ভর্তির ব্যবস্থা করা যায় কি না, সেটা ভেবে দেখার কথা বলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুরঞ্জন দাস। তিনি বলেন, “রাজ্য সরকার যদি খেলাধুলোর মতো এনএসএস কোটাতেও ছাত্রছাত্রী ভর্তি শুরু করার অনুমতি দেয়, তা হলে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই আমরা সেই ব্যবস্থা চালু করে দিতে পারি।”

আট বছর বাদেও মন্ত্রীর সেই আশা, উপাচার্যের প্রস্তাব সেভাবে পূরণ হয়নি। বহু পড়ুয়া এখনও বিষয়টি সম্পর্কে আগ্রহী নন। জাতীয় সেবা প্রকল্পের ব্যাপারে অবগতও নন। কল্যাণীতে বৃহস্পতিবারের সমাবেশে রাজ্যের এবং কেন্দ্রের আধিকারিকরা এ সম্পর্কে আশাবাদের কথা জানান।

এদিন অনুষ্ঠানে সম্মানীয় অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় সরকারের যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রকের অধিকর্তা পঙ্কজ কুমার সিং। এ ছাড়াও আমন্ত্রিত বিশিষ্টদের মধ্যে ছিলেন এনএসএস-এর আঞ্চলিক অধিকর্তা বিনয় কুমার, পশ্চিমবঙ্গের উচ্চশিক্ষা দফতরের দুইআধিকারিক ডঃ রমাপ্রসাদ ভট্টাচার্য ও অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন অধ্যাপক ডঃ সুজয় কুমার মণ্ডল। সন্দ্যায় হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম। শিবিরে পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের পূর্বাঞ্চলের প্রচুর স্বেচ্ছাসেবক ছাত্র-ছাত্রী, অধ্যাপক-অধ্যাপিকা ও আধিকারিকরা যোগ দেন।

প্রসঙ্গত, গত মে মাসে মেদিনীপুরের রাজা নরেন্দ্রলাল খান মহিলা মহাবিদ্যালয়ে হয় জাতীয় সেবা প্রকল্প রাষ্ট্রীয় একতা শিবির। ভারত সরকারের ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দফতর, এন এস এস-এর কলকাতার রিজিওনাল ডাইরেক্টোরেট ও রাজ নরেন্দ্রলাল খান মহিলা মহাবিদ্যালয় (অটোনোমাস)- এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হয় সেটি। ভারতের স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ওই শিবিরের মূল থিম ছিল ‘আজাদী কা অমৃত মহোৎসব’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *