ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় আগামী দুমাসের মধ্যে বড়সড় পদক্ষেপ, দাবি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মণিকা আরোরার

শ্রীরূপা চক্রবর্তী, আমাদের ভারত, ১০ আগস্ট:
বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনার বিরুদ্ধে আগামী দু’মাসের মধ্যে বড়সড় পদক্ষেপ নজরে আসবে সকলের, দাবি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তথা বিশিষ্ট লেখিকা মনিকা আরোরার। তাঁর দাবি, এই হিংসার ঘটনায় অপরাধীরা কোনো ভাবেই পার পাবে না। মোদী সরকার তথা দেশের আইন ব্যবস্থা বাংলায় যে ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনা ঘটছে তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ করবে, যার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। এন আর আইজ ফর বেঙ্গলের উদ্যোগে ফেসবুকে একটি টকশোতে এমনটাই দাবি করেছেন তিনি।

যুধাজিত সেন মজুমদারের উদ্যোগে রাজ্য তথা দেশের জ্বলন্ত ইস্যু নিয়ে নিয়ে নিয়মিত আলোচনা সভার আয়োজন করে এন আর আইজ ফর বেঙ্গল। রাজ্যে ‘ভোট পরবর্তী হিংসা’র মতো আলোড়িত ইস্যু নিয়ে এবারের আলোচনার মূল বক্তা ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তথা বিশিষ্ট লেখিকা মনিকা আরোরা। বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় গর্জে ওঠেন তিনি। তাঁর দাবি শুধুমাত্র বিজেপিকে সমর্থন করার কারণে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা নির্বিচারে অত্যাচারে চালিয়েছে সাধারণ মানুষের উপর। এই ঘটনায় হিন্দুদের উপর অকথ্য নির্যাতন চলেছে। তিনি এই হিংসার ঘটনাকে ১৯৪৭–র ভারত ভাগের সময়ে আমজনতার উপর যে অত্যচার হয়েছিল তার সঙ্গে তুলনা করেছেন।

তিনি বলেন, শুধুমাত্র হিন্দু এবং বিজেপি করার অপরাধে বহু মহিলা গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এক ৬০ বছরের বৃদ্ধাকে তার ৬ বছরের নাতির সামনে গণধর্ষণের শিকার হতে হয়েছে। ১৭ বছরের তরুণী হোক বা ২৬ বছরের গৃহবধূর এমন বহু নারী লালশার শিকার হয়েছেন। ভয়ে ঘর ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে বহু মানুষকে। পরে যখন তাঁরা নিজেদের ভিটেমাটিতে ফিরতে চেয়েছেন, তখন তাদের সামনে রাখা হয়েছে একাধিক শর্ত। বলা হয়েছে তাদের মাথা নত করে বলতে হবে তাঁরা বিজেপি করে ঠিক কাজ করেননি। তাদের সর্ব সমক্ষে তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নিতে হবে। এখানেই শেষ নয়, বাড়ি ফিরতে হলের নিজের বাড়ির মেয়ে বৌকে কিছুদিনের জন্য স্থানীয় শেখ নামে তৃণমূল নেতাদের কাছে ছেড়ে দিতে হবে।

আরও পড়ুন
হাওড়ার বাইনানে বিজেপি নেতার স্ত্রীকে গণধর্ষণ, গ্রেফতার ২ তৃণমূল কর্মী জয়নাল মল্লিক ও শাহিদ মল্লিক

মনিকা আরোরা দাবি করেন, বাংলার এর আগেও বহু হিন্দু অত্যচারের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু সেই সময় ন্যয়বিচার হয়নি। কিন্তু এবার সেটা হবে। কারণ এখন কেন্দ্রে মোদী সরকার ক্ষমতায় আছে। আর সেই কারণেই বাংলার ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে কেন্দ্রের পাঠানো দল হোক, মানবাধিকার কমিশন হোক, তপশিলী জাতি উপজাতি কমিশনের প্রতিনিধি দল সকলেই একই কথা বলেছেন। সকলেই রিপোর্টে হিন্দুদের উপর অত্যচারের ঘটনার উল্লেখ করেছেন। সকলেই সিবিআই অথবা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির অধিনস্ত কমিটি গঠনের সুপারিশ করেছে, যাতে নিরপেক্ষ বিচার হয়। তিনি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার কারণেই এই অত্যাচারের ঘটনা ধামাচাপা পড়েনি। সবটা সবার সামনে এসেছে। এমনকি কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতিরাও স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে এক্ষেত্রে আগামী দুমাসের মধ্যে বড়সড় পদক্ষেপ হবে বলে আশাবাদী তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *