শ্রীরূপা চক্রবর্তী, আমাদের ভারত, ৭ মার্চ: লোকসভায় হাফ এবার তৃণমূল পুরো সাফ। ইতিমধ্যেই এই স্লোগানকে সামনে রেখে রাজ্যের বিজেপি কর্মীরা পাড়ায় পাড়ায় সভা মিছিল করছেন। এবার তার সাথেই যোগ হলো প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নতুন স্লোগান এবার জোরে ছাপ, টিএমসি সাফ। মোদী বলেন, লোকসভায় স্লোগান ছিল চুপচাপ পদ্মে ছাপ। সেই মত প্রায় অর্ধেক আসন বিজেপি দখল করতে পেরেছিল। কিন্তু এবার রাজ্যের মানুষকে তিনি আহ্বান জানান আর চুপচাপ নয়, নির্ভয়ে দ্বিধাহীনভাবে পদ্মে ছাপ দিন। তিনি আশ্বস্ত করেন ২ মে-র পর থেকে আর ভয়ের পরিবেশ থাকবে না এই রাজ্যে।
রবিবার ব্রিগেডের মঞ্চ থেকে নরেন্দ্র মোদী সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “কোনও রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করবেন না। লোকসভায় মন্ত্র ছিল “চুপচাপ পদ্মে ছাপ”। এবার “জোরে ছাপ টিএমসি সাফ”। বাংলায় গণতন্ত্র ফিরতে চলেছে তার সাক্ষী থাকব আমরা সবাই।”
মোদী বলেন, “বাংলার ভোট দাতাদের অনুরোধ করছি ভয় পাবেন না। নির্ভয়ে বিজেপিকে ভোট দিন। কুশাসনের বিরুদ্ধে, তোষামোদের রাজনীতির বিরুদ্ধে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ভোট দিন। বাংলাকে ভয়মুক্ত করুন। উন্নতির জন্য ভোট দিন।”

মোদী বলেন, বাংলার জয়, ভারতের জয়। লোকসভায় তৃণমূল হাফ হয়েছিল এবার পুরো সাফ হয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন,” শুধু ক্ষমতা পরিবর্তন আমাদের উদ্দেশ্য নয়। আমরা বাংলার রাজনীতিকে উন্নয়নমুখী করে তুলবো। বাংলাকে ধ্বংস করার সুযোগ আর কাউকে দেব না।” তিনি বলেন, “আমরা এবার আসল পরিবর্তনের কথা বলেছি। বাংলার মানুষকে মাথায় রাখতে হবে বহুবার তাদের সাথে ছল করা হয়েছে। স্বাধীনতার স্লোগান দিয়ে কংগ্রেস ক্ষমতায় এসেছিল। স্বাধীনতার পর কিছুটা কাজ হয়েছিল। কিন্তু এরপর বাংলায় ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির জাঁকিয়ে বসে। বামপন্থীরাও এগিয়ে আসে।”
মোদী বলেন, “বাংলা কী হারিয়েছে তা আপনারা আমার চেয়ে ভালো জানেন। বাংলার কাছ থেকে যা যা কেড়ে নেওয়া হয়েছে সেগুলি ফিরিয়ে আনব। ভারত স্বাধীনতার ৭৫ বছরের প্রবেশ করছে। এই সময় বাংলা এক নতুন সংকল্প নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের মতোই বাংলার উন্নতিতেও আগামী ২৫ বছর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর এই পঁচিশ বছরের সূচনার প্রথম ধাপেই বিধানসভা নির্বাচন। ২৫ বছরের উন্নতির ভিত্তি হতে চলেছে এই নির্বাচন।” শুধু বাংলায় সরকার বদলের জন্য নয়, বাংলাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য বিজেপিকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
মোদী বলেন, “২০৪৭ সালে যখন দেশ স্বাধীনতার ১০০ বছর উদযাপন করবে, তখন বাংলা আবার যেন দেশকে আবার সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিতে পারে। চা থেকে পর্যটন, পশ্চিমবঙ্গের মাটি, ফসল, সমুদ্র সব আছে। কিন্তু স্বচ্ছ মনে এগুলিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া দরকার।”

