আমাদের ভারত, ২ নভেম্বর: নিয়োগ দুর্নীতিতে রাজ্যের একাধিক নেতা মন্ত্রীদের নাম জড়িয়েছে। এমনকি জেলেও গেছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায় মানিক ভট্টাচার্যরা। শিক্ষা দপ্তরের একাধিক আধিকারিকও এখন একই কারণে জেলে। কলকাতা হাইকোর্টে মামলা চলছে নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে। রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন চাকরি প্রার্থীরা। এই পরিস্থিতিতে চাকরি পাওয়ার রাস্তা বলে দিলেন কামারহাটির তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক মদন মিত্র। আর তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
বেলঘড়িয়ায় জগদ্ধাত্রী পুজোর উদ্বোধন করতে এসেছিলেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। পুজোর অনুষ্ঠান মঞ্চে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মা জগদ্ধাত্রীর সঙ্গে তুলনা করেন মদন মিত্র। তিনি বলেন, “ছেলেমেয়েদের চাকরি চাই। কাউকে টাকা দেবেন না। প্রতারকরা ঘুরে বেড়াচ্ছে চাকরি দেবো বলে। চাকরি যদি দেয় তাহলে ওই মালিক বসে আছে মা জগদ্ধাত্রী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তার কাছে চাইবেন। যে চাকরি দেবে, সে কোনো দিন টাকা চাইবে না। আর যে টাকা চাইবে সে কোনো দিন চাকরি দেবে না।”
সাম্প্রতিক সময় রাজ্যের মানুষকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়ে গেছে চাকরি প্রার্থীদের বিক্ষোভ। করুণাময়ীতে দীর্ঘ অনশনে বসে থাকতে দেখা গিয়েছে তাদের। অনশনরতদের রাতের বেলায় টেনে হিঁচড়ে তুলে দিয়েছে পুলিশ। এরপর আন্দোলন করলে চাকরি দেওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তার কথায় চাকরি মিলবে মেধার ভিত্তিতে। এই সব ইস্যুতে সরব বিরোধীরাও।
কিন্তু মদনের এই উক্তির পিছনে যথেষ্ট তাৎপর্য রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ এখনও ধর্মতলায় অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছে টেট উত্তীর্ণ চাকরি প্রার্থীরা। তাদের বার্তা দিতেই কি মদন এই মন্তব্য করেছেন? কারণ তাদের একটাই দাবি চাকরি চাই। তাই তাদেরকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর ভরসা রাখার উপদেশ দিয়েছেন মদন মিত্র। তাই তারা যে পথে বসে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তা ঘুরিয়ে হলেও বন্ধ করতে বার্তা দিয়েছেন মদন। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে মদনের এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

