আমাদের ভারত, ৩১ জুলাই: রাজ্যের নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে প্রথম থেকেই সরব বিজেপি। লাগাতার কর্মসূচির মাধ্যমে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে পদ্ম শিবির। মিছিল পোস্টার সমাবেশ সব কিছুই করেছে তারা। তাদের দাবি, এই দুর্নীতির দায় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ করুন। ফলে স্পষ্ট হয়ে গেছে এই দুর্নীতি ইস্যুতে বিজেপি তাদের আন্দোলন জারি রাখবে। শনিবার রাজ্য বিজেপি সভাপতি ঘোষণা করলেন সেপ্টেম্বরে তারা নবান্ন ঘেরাও করবেন।
গতকাল হাজারায় বিজেপির “চোর ধরো জেলে ভরো কর্মসূচি ঘিরে” চুড়ান্ত উত্তেজনা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পোস্টার লাগাতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। সেখান থেকে একরকম হাইজ্যাক করার মতো আটক করা হয় বিজেপির রাজ্য সভাপতিকে। সুকান্ত মজুমদার কটাক্ষ করে বলেন, পোস্টার লাগাতে দিতে আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভয় পাচ্ছেন। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ভয় তাদের ভালো লাগছে।
দুপুর আড়াইটে নাগাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে পৌঁছনো মাত্র রাজ্য পুলিশ বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকে আটক করে। তাকে গাড়ি থেকে নামতে পর্যন্ত দেয়নি পুলিশ বলে অভিযোগ। কেড়ে নেওয়া হয় তার হাতে থাকা দুর্নীতি বিরোধী পোস্টার। এক পুলিশ কর্মী রীতিমতো সেই পোস্টার তার হাত থেকে ছিনিয়ে নেয়। এরপর রীতিমতো টানা হ্যাঁচড়া করে পুলিশ তাকে একটি লাল গাড়িতে তুলে লালবাজারে নিয়ে যায়। সন্ধ্যে বেলায় লালবাজার থেকে বেরিয়ে তিনি মিছিল করে দলীয় কার্যালয়ে আসেন।
সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন সুকান্ত মজুমদার। তিনি দাবি করেন, রাজ্যে কার্যত অঘোষিত জরুরি অবস্থা চলছে। তাই পোস্টার মারতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি আসলে মমতা সরকার ভয় পেয়েছে।
তিনি বলেন, “এমার্জেন্সির সময়ে দেখেছিলাম পোস্টার লাগানো অপরাধ। আর দ্বিতীয় বার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে ফের দেখলাম পোস্টার লাগানো অপরাধ। মুখ্যমন্ত্রীর ভয় পাচ্ছেন বোঝা যাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে অলিখিত এমার্জেন্সি চলছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই ভয় আমাদের ভালো লাগছে।”
তিনি বলেন, “তৃণমূল সরকারের এই অত্যাচার আর বেশিদিন নেই। দিন গুনতে শুরু করুন। তৃণমূল কংগ্রেস এখন পুলিশ নির্ভর হয়ে গেছে। পোস্টার লাগাতে দেওয়ার মত সাহস নেই তৃণমূল সরকারের। এই সরকারকে উৎখাত করবো আমরা। কোনো বন্দুক, কোনো জেল কোনো বোমা আটকাতে পারবে না আমাদের। আগামী দিনে রাজ্যে বিজেপি সরকার গড়বে।” হুঁশিয়ারি দিয়ে সুকান্ত মজুমদার শনিবার জানিয়ে দেন, আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই নবান্ন ঘেরাও করবে বঙ্গ বিজেপি।
রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বঙ্গ বিজেপি সভাপতি বলেন, সরকারের চুরির কথা বলছি বলে অত্যাচার নামিয়ে এনেছে রাজ্যের পুলিশ। তাঁর কটাক্ষ, “পুলিশ আছে বলেই তৃণমূল দলটা চলছে। পুলিশ ছাড়া তৃণমূল কংগ্রেসের কিছুই নেই। পুলিশ সরে গেলে দলটা উঠে যাবে।”

