আমাদের ভারত, ২৯ জানুয়ারি:সরকারি জমিতে অবৈধ ধর্মীয় নির্মাণ সরাতে কড়া অবস্থান নিলো মমতা সরকার। নবান্নের তরফে জেলার জেলাশাসকদের লিখিত আকারে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অবিলম্বে সরকারি জমি থেকে অবৈধ ধর্মীয় নির্মাণ সরিয়ে ফেলে নবান্নে রিপোর্ট পাঠাতে হবে।
২৭ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সদরদপ্তর নবান্ন থেকে জেলাশাসকদের কাছে এই নির্দেশিকা এসে পৌঁছেছে। নির্দেশিকায় দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, কালিম্পং, পূর্ব মেদিনীপুর,উত্তর ২৪ পরগনা এবং পূর্ব বর্ধমানের মতো জেলার উল্লেখ রয়েছে। ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লাগলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে পারে সে কথা মাথায় রেখেই সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসককে বাড়তি সর্তকতা অবলম্বন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্রের খবর বিভিন্ন জেলায় সরকারি জমিতে অবৈধ নির্মাণ গজিয়ে ওঠার কারণে পরিকাঠামোগত উন্নয়নের কাজে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। রাস্তা সম্প্রসারণ, বিভিন্ন সরকারি নির্মাণের কাজ ব্যাহত হচ্ছে অবৈধ নির্মাণের জন্য। এলাকার মানুষ সরকারি উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এই সংক্রান্ত অভিযোগ ছিল সরকারের কাছে।
তাই বাম আমলের নীতিকে মান্যতা দিয়ে নবান্নের তরফে নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। বলা হয়েছে, সরকারি জমিতে কোন অবৈধ নির্মাণকে অনুমোদন দেবে না সরকার। রাজ্য সরকারি দপ্তর এবং পঞ্চায়েত, পৌরসভাগুলির মত স্থানীয় প্রশাসন সংস্থাগুলিকে এই ধরনের নির্মাণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ একবার নির্মাণ হয়ে গেলে জনগণ তা গ্রহণ করে নেবে। যে সরকারি বিভাগের জমি সেই বিভাগকেই ওই জমি খালি করার দায়িত্ব নিতে হবে। স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তরের সিনিয়র বিশেষ সচিব নির্মাল্য সরকারের সই করা নির্দেশিকা ইতিমধ্যে জেলা শাসকের কাছে পৌঁছেছে। আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্দেশিকার প্রতিলিপি রাজ্য পুলিশের ডিজি ও আইজিকে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ কমিশনার এবং পুলিশ সুপারদের সরকারি জমি দখলমুক্ত করার জন্য জেলাশাসকদের সাহায্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি জমি দখলমুক্ত করার কাজ কতদূর এগিয়েছে তা জানিয়ে ফেব্রুয়ারি মাসের ১৬ তারিখের মধ্যে সরকারের কাছে রিপোর্ট পাঠাতে হবে।

