শুধু ভোট নয় ফল ঘোষণা পর্যন্ত থাকবে বাহিনী, প্রতি বুথে সম অনুপাতে বাহিনী ব্যবহারের নির্দেশ হাইকোর্টের

আমাদের ভারত, ৪ জুলাই: কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের ব্যবহার নিয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের যে বক্তব্য ছিল, তার বিরুদ্ধে সরব হয়েছিল বিরোধীরা। কিন্তু কমিশনের তৈরি সেই ভাবনা চিন্তাকে একেবারে বদলে দেওয়ার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। সোমবার রাজ্য নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল প্রতি বুথে সশস্ত্র বাহিনী থাকবে। এই সশস্ত্র বাহিনী বলতে রাজ্য পুলিশকে তারা রাখতে চলেছেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু আজ আদালতের নয়া নির্দেশে বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীও রাখতে বাধ্য থাকবে কমিশন। একই সঙ্গে বাহিনী মোতায়েনের ক্ষমতাও আদালত কেন্দ্রীয় বাহিনীর আধিকারিকের হাতে তুলে দিয়েছেন।

কমিশনের কর্তাদের সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছিলেন বুথে কি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে? জবাবে কমিশন বলেছিল নির্বাচন কমিশন সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে ফারাক করছে না। কেন্দ্রীয় বাহিনী সশস্ত্র, পুলিশ বা রাজ্যের বাহিনীও সশস্ত্র। কমিশনের এই কথা শুনে বিরোধীরা বলতে শুরু করেছিল তার মানে বুথের মধ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখা হবে না। বুথে থাকবে রাজ্যের পুলিশ।

কিন্তু মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের বেঞ্চ এদিন নির্দেশ দিয়ে জানিয়েছেন, মোট ৮০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়ন করা হচ্ছে পঞ্চায়েত ভোটে। তার মানে ৬৫ হাজার অ্যাক্টিভ ফোর্স আর রাজ্যের থাকবে ৭০ হাজার সশস্ত্র পুলিশ। এই দুই বাহিনীকে ৫০-৫০ অনুপাতে ব্যবহার করতে হবে।

আদালত বোঝাতে চেয়েছে প্রতি বুথে যে সংখ্যায় রাজ্যের সশস্ত্র পুলিশ থাকবে, সমান সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনীও মোতায়েন করতে হবে। এছাড়াও কুইক রেসপন্স টিমে শুধু রাজ্যের পুলিশ থাকলে চলবে না।

কেন্দ্রীয় বাহিনী যে ৮০০ কোম্পানি বাহিনী পাঠাচ্ছে তার মধ্যে সবাই সশস্ত্র পুলিশ নয়। প্রতিটি কোম্পানিতে রান্নার লোক, ড্রাইভার, সাপোর্ট স্টাফ মিলিয়ে প্রায় ১৫ জন থাকেন অর্থাৎ এক কোম্পানিতে ৬৫ জনের অ্যাক্টিভ ফোর্স থাকছে। এই হিসাবটাই বলছে প্রধান বিচারপতি।

তাঁর আরও নির্দেশ, বিএসএফের আইজি পদমর্যাদার অফিসার ফোর্স কোয়াডিনেটর হিসেবে কাজ করবেন। কোথায় কত ফোর্স পাঠাতে হবে তিনি স্থির করবেন। অর্থাৎ বাহিনী মোতায়নের ব্যাপারটার পুরোপুরি রাজ্য নির্বাচন কমিশনের হাতে থাকল না।

উচ্চ আদালত এদিন আরও একটি বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছে। বিচারপতি বলেছেন, প্রথম নির্দেশেই আদালত জানিয়েছিল যে, পঞ্চায়েত ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে তার মানে শুধু ভোটের দিন নয়, গোটা পঞ্চায়েত ভোট চলাকালীন বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছিল, অর্থাৎ ফল ঘোষণা পর্যন্ত বাহিনী মোতায়েন রাখতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *