নেতা ভিত্তিক নয়, বিজেপি নীতি ভিত্তিক দল! ঘরোয়া কন্দোল ভুলে এক হয়ে কাজ করার কড়া দাওয়াই সুকান্ত-মিঠুনের

আমাদের ভারত, ২৬ নভেম্বর: বেশ কিছুদিন ধরেই বঙ্গ বিজেপির সব নেতা কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখা যাচ্ছে না। কেউ তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন, কেউ দল ছেড়ে দিচ্ছেন, আবার একটা বড় অংশ নিষ্ক্রীয় হয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে আবার যারা দলে আছেন তারা রাজ্য নেতৃত্বের সব সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছেন না। ফলে প্রবল দ্বন্দ তৈরি হয়েছে অন্দরেই। কিন্তু পঞ্চায়েত নির্বাচনে আগে এই সমস্যা সমাধানে কড়া দাওয়াই দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বঙ্গ বিজেপি। তাই বাঁকুড়া হোক আসানসোল দলের সাংগঠনিক বৈঠকে গ্রুপবাজি বন্ধ করে এক হয়ে কাজ করার কড়া দাওয়াই দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার ও মিঠুন চক্রবর্তী।

সূত্রের খবর, একজোট হয়ে কাজ করতে না পারলে ক্ষমতায় আসা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন তারা।
সুকান্ত মজুমদার বলেন, নিজেরা ঐক্যবদ্ধ হতে না পারলে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে কোন দিনও ক্ষমতায় আসতে পারবে না। সাংসদ বিধায়ক কেউই চিরস্থায়ী নন। সাংগঠনিক নেতারা অনেকেই সক্রিয় নন এখনো। পদে থাকলে কাজ করতে হবে। ঘরে বসে থাকা যাবে না। যারা পারবেন না, তারা জেলা সভাপতিকে জানিয়ে দেবেন। মন্ডল সভাপতিরা যেমন কাজ করছেন সেই হিসেবেই তাদের রাখা হচ্ছে। পদ আঁকড়ে শুধু ঘুরে বেড়ালে চলবে না। সংগঠনে নজর দিতে হবে। কে টিকিট পেলেন আর কে পেলেন না এই নিয়ে ঝামেলা করলে হবে না। যারা বিজেপি ছেড়ে যাবেন না তাদেরকেই প্রার্থী করুন। বুথ কর্মীদের নাম পাঠাতে বলুন। সেখান থেকে বাছাই করুন।

সূত্রের খবর, আসানসোলের দলীয় বৈঠকে তিনি বলেন, “কে কত বড় নেতা? পাণ্ডবেশ্বর এবং জামুরিয়াতে গিয়ে কাজ করুন। আমরা নেতারা ভয়ে বেরতে না পারলে কিভাবে দলের কর্মীরা বার হবে? নিজেদের পছন্দমত প্রার্থী হয়নি বলে একে হারাতে হবে এটা করবেন না। চালাকি করবেন না। গ্রুপ বাজি বন্ধ করুন। এভাবে রাজনীতি হয় না, রাজ্য সভাপতি চলে গেলেই পিছনে অন্য কাজ হচ্ছে।”

অন্যদিকে মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, “যে মুহূর্তে নিজেকে সর্বেসর্বা মনে হবে তখনই সব শেষ। আমি থেকে আমরাতে আসুন। হারের কারণ পর্যালোচনা করতে হবে।যেটা হারের কারণ সেই জায়গাটা বন্ধ করতে হবে। দলের মহিলা শক্তিকে গুরুত্ব দিতে হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মহিলা হওয়ার কারণে অ্যাডভান্টেজ পান।

তিনি আরও বলেন, “একে অপরের দিকে আঙুল তোলা বন্ধ করুন। অন্যের ঘরের দিকে না তাকিয়ে আগে নিজের ঘর সামলান। দলে শৃঙ্খলার অভাব দেখা যাচ্ছে। কুৎসা না করে নিজের নেতাকে সম্মান করুন।নেতাকে সম্মান করতে না পারলে ছেড়ে দিন।

পঞ্চায়েত ভোটের আগে, বিজেপির সাংগঠনিক সভায় এমনই কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে জেলায় জেলায় বলে সূত্রের খবর। সাংগঠনিক বৈঠকের শেষে সংবাদ মাধ্যমের কাছে বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, কোনো গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের ব্যাপার নেই। সবাইকে এক হয়ে চলতে হবে। যে কোনো দলের মনোমালিন্য হয়েই থাকে তা থেকে বেরিয়ে আসাই রাজনৈতিক দলের কাছে চ্যালেঞ্জ। আমাদের দলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বলে কিছু নেই আমাদের দল নেতাভিত্তিক দল নয় নীতি ভিত্তিক দল। আসানসোলে তিনি বলেন, দলে কোনো কোন্দল নেই। দলের নেতা কর্মীদের বলে গেলাম, শাসকদলের সন্ত্রাসের মোকাবিলায় যার যে ধরণের ওষুধ প্রয়োজন, সেটা প্রয়োগ করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *