১০০ কোটির বেশি দুর্নীতি! “শুধু নিয়োগ নয়, বদলি পদোন্নতি সব ক্ষেত্রেই টাকা নেওয়া হতো,” দাবি ইডির

আমাদের ভারত, ২৯ জুলাই: শুধু বেআইনিভাবে চাকরিতে নিয়োগ নয়, শিক্ষা দপ্তরের যে কোনো কাজের জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা নেওয়া হতো বলে তদন্তকারীরা দাবি করেছেন। তাঁরা জানাচ্ছেন বদলি পদোন্নতি সব ক্ষেত্রেই টাকা তোলার নিয়ম ছিল। আর এই সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ ছিল প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় হাতেই। এই টাকা আদায় করত তার অনুগত কিছু অফিসারকে নিয়ে গড়া একটি গোষ্ঠী।

স্কুল সার্ভিস কমিশন, প্রাথমিক টেট কান্ডের ১০০ কোটির বেশি টাকা উদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে। এই বিষয়ে বেশ কয়েকটি সূত্র মিলেছে বলেও তদন্তকারী সংস্থার কর্তাদের দাবি। যাচাই করা হচ্ছে পার্থবাবুর বান্ধবীর অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের প্রতিটি বয়ান। ইডি সূত্রে খবর, রাজ্যের গোটা শিক্ষা দপ্তরটাই বেআইনি টাকা তৈরীর কারখানায় পরিণত হয়েছিল বলে সন্দেহ। পার্থবাবু শুধু বেআইনি নিয়োগের মূল নিয়ন্ত্রক ছিলেন না, লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে শিক্ষকদের বদলি ও পদোন্নতি সব বিষয়ে তিনি মূল নিয়ন্ত্রক ছিলেন।

এসএসসির মাধ্যমিক নিয়োগ এবং টেটের সূত্রে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ ছাড়াও বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রেও কোটি কোটি টাকা লুট করা হয়েছে বলে তদন্তে তথ্য উঠে আসছে। জানা যাচ্ছে, শিক্ষা দপ্তরের পার্থবাবুর ঘনিষ্ঠ এবং অনুগত বেশ কয়জন অফিসারকে নিয়ে একটি গোষ্ঠি তৈরি করা হয়, সেই গোষ্ঠী বেআইনি নিয়োগ, শিক্ষকদের বদলি এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রার্থীর কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করত। নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে নেমে এমনই তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। দুর্নীতি কাণ্ডে পার্থবাবুর ব্যক্তিগত সচিব সুকান্ত আচার্যকে তার সামনে বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

অর্পিতার বয়ান অনুযায়ী পার্থ ঘনিষ্ঠরা নিয়মিত টাকা নিয়ে ডায়মন্ড সিটি এবং বেলঘড়িয়ার ফ্ল্যাটে যেতেন। সেখানে টাকা পকেটে বন্দি করা হতো। প্যাকেট হয়ে যাওয়ার পর কখনো কখনো তা বাইরে নিয়ে যাওয়া হতো। টাকার বিষয়ে খোঁজখবর নিতে স্বয়ং পার্থবাবু মাঝেমধ্যেই সন্ধ্যের পর যেতেন ওইসব ফ্ল্যাটে। ফিরতেন রাতের দিকে। সূত্রের খবর, অর্পিতার কুড়িটি মোবাইল ঘেঁটে বেশ কয়েকজন মন্ত্রী সাংসদ বিধায়ক ছাড়াও অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তি শিক্ষা দপ্তরের অফিসার রাজ্যের বিভিন্ন জায়গার শাসক দলের ছোট বড় নেতাদের নম্বর পাওয়া গেছে। সেই সব লোকেদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ইতিমধ্যেই যে দুটি ফ্ল্যাট থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধার হয়েছে, সেখানে পার্থবাবু ছাড়াও অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তি ও শিক্ষা দপ্তরের কর্মীদের যাতায়াত ছিল বলে তদন্তে তথ্য উঠে এসেছে। বছর কয়েক আগে পার্থ অর্পিতা সিঙ্গাপুরে গিয়েছিলেন। সে বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছে তদন্তকারীরা। চর্চা চলছে বোলপুর শান্তিনিকেতন জুড়ে পার্থবাবুর কত বাড়ি জমি রয়েছে, কটি বাড়িতে তার যাতায়াত ছিল। শান্তিনিকেতনে প্রতিবেশীদের মুখ থেকেও নানা তথ্য উঠে আসছে। এছাড়াও কসবার একটি আবাসন প্রকল্পে নাম জড়িয়েছে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *