স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদীয়া, ১ জুন:
কোনও মঠ-মন্দির নয়, কদম গাছের ওপরে মাচা করে সেখানেই সাধনা করছেন নবদ্বীপের মাচান বাবা। এইভাবে তার দশ বছর কেটে গেছে। গাছেই তাঁর ঘরবাড়ি আর গাছের উপর ছোট্ট মাচাটাই তাঁর মন্দির। দিনরাত তিনি সেখানেই থাকেন। নবদ্বীপের রানীচরে চলে এলেই দেখা যাবে এই দৃশ্য। দেখা যাবে কদম গাছের তলায় খাবারের অপেক্ষায় মাচার নিচে দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য কুকুর। খাবারের খোঁজে হনুমান ও পাখিও ঢুকে পড়ে এই মাচান বাবার ডেড়ায়।
নবদ্বীপ শহরের রানীচড়ে ভাগীরথীর ধারে এক কদম গাছের ওপরে ১০ ফুট উঁচু মাচার ওপরেই মাচান বাবার সাধন ক্ষেত্র। স্থানীয় লোকজন তাকে শ্যামল দাস নামে জানলেও দীর্ঘ ১০ বছরেরও বেশি সময় মাচায় বসে সাধনা করছেন বলে তিনি মাচান বাবা বলেই নবদ্বীপে পরিচিতি লাভ করেছেন।

তাঁর বাড়ি বেশি দূরে নয় খুব কাছেই। তিনি একসময় একটা মন্দিরেও থাকতেন। মন্দিরে থাকাকালীন তাঁর মনে একাকী ভগবান সাধনা করার চিন্তা জাগে। তৎকালীন সময়ে প্রায় ১০ বছর আগে তিনি রানী চরের গঙ্গার ধারে মাচা করে থাকতে শুরু করেন। কিন্তু বর্ষায় গঙ্গার জল বাড়লে ঘরে জল ঢুকতে থাকে এবং ঘর বসবাসের অযোগ্য হয়ে যায়। তখন এলাকার লোকেরা সাহায্য করে বাঁশ এবং দড়ি জোগাড় করে দিলে তিনি নিজেই নিজের হাতে পোঁতা তিনটি কদম গাছের মধ্যে একটি কদম গাছের ডালে বাঁশ, কাঠ, ত্রিপল দিয়ে একটা দশ ফুটের মাচা তৈরি করে ঈশ্বর সাধনা শুরু করেন। একটা মই ঝুলিয়ে দিয়েছেন, সেই মই দয়ে তিনি ওঠানামা করেন।

আগে ভোর বেলায় তিনি নামতেন, নেমে প্রাতঃক্রিয়া করে গঙ্গা স্নান করে ওপরে উঠে যেতেন সাধনা করতে। পাশেই মন্দির থেকে তাঁকে খাবার দিয়ে যেত সেই খাবার তিনি খেতেন। আবার অনেকে গঙ্গা স্নান করতে আসার সময় এই সাধুকে খাবার দিয়ে যেত। চাল, আলু যা জুটতো মাচার ওপরে বসেই তিনি উনুনে ফুটিয়ে নিতেন। না হলে বিস্কুট মুড়ি শসা দিয়ে সেবা করতেন।

কিন্তু এখন লকডাউনের কারণে সবাই এদিকে আসে না। তাই মন্দির থেকে খাবারও দেয় না এখন আর। সে কারণে ওঁনাকে এখন কিছুদিন অন্তর ভিক্ষায় বেরোতে হয়। একদিন ভিক্ষায় যা পান তাতেই কয়েকদিন চলে যায়। তবে তিনি একা খান না। খাবার লোভে কয়েকটা কুকুর আছে গাছের নিচে যারা বসে থাকে তাদেরও তিনি দেন। আছে কয়েকটা হনুমান ও পাখি তাদেরও তিনি নিরাশ করেন না।

