আমাদের ভারত, ৮ অক্টোবর: রাজারাজ চোল হিন্দু নন। পরিচালক ভেত্রিমারানের এই মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক এখন তুঙ্গে। বিখ্যাত অভিনেতা কমল হাসানও এই মন্তব্যের সঙ্গে সহমত প্রকাশ করেছেন। কিন্তু এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছেন কংগ্রেস নেতা করণ সিং। তিনি বলেন, একজন শৈব যদি হিন্দু না হয় তাহলে একজন ক্যাথলিককে খ্রীষ্টান বলা যাবে না।
একটি বিবৃতি জারি করে কংগ্রেস নেতা করণ সিং বলেছেন, “আমি এটা শুনে চমকে উঠেছি যে রাজারাজ চোল একজন হিন্দু রাজা নন। এটা সম্পূর্ণ একটি হাস্যকর মন্তব্য। শিব হিন্দুদের আদীমতম দেবতা। হাজার হাজার শতক ধরে শ্রীনগর থেকে রামেশ্বরম পর্যন্ত হিন্দুরা শিবের উপাসক। রাজারাজ চোল সেই রাজা যিনি থাঞ্জাভুরে শিবের বৃহদেশ্বর মন্দির স্থাপন করেছিলেন যা দ্রাবিড়দের উৎকৃষ্ট স্থাপত্য। যেখানে আমি বহুবার পুজো দিয়েছি। একজন শৈব হিন্দু নন এটা বলার অর্থ একজন ক্যাথলিক খ্রিস্টান নন বলার মত।
তিনি আরো বলেন, “এই সব মন্তব্য আমাদের মহান ধর্মকে হেয় ও বিভ্রান্ত করে” তাঁর মতে, ‘হিন্দু’ শব্দটির বহুল ব্যবহার পরে শুরু হলেও শিব, বিষ্ণু, হনুমান, গণেশ, মহালক্ষ্মী এবং মহাকালীর মতো দেবতারা শহস্রাব্দ ধরে সনাতন ধর্মের অংশ ছিল। এভাবে শৈব, বৈষ্ণব এবং শাক্তধর্মের মধ্যে বিভাজন তৈরি করার চেষ্টা করা উচিত নয়, তিনি বলেন, হিন্দু ধর্মের এই তিন ধারার কোটি কোটি অনুসরণকারী সারা বিশ্বে ছড়িয়ে রয়েছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, চোল সাম্রাজ্যের কথা উঠে এসেছে মনিরত্নমের ছবি পন্নিয়িন সিলভান-১ ছবিটি কল্কি কৃষ্ণমূর্তির উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। মুক্তির পর দারুণ সাফল্য পেয়েছে ছবিটি। কিন্তু ছবিটিকে ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়। পরিচালক ভেত্রিমারান দাবি করেছেন, ছবিটিতে রাজারাজ চোলকে একজন হিন্দু রাজা হিসেবে দেখানো হয়েছে। সেটা সঠিক নয়। তিনি বলেন, “আমাদের পরিচয় ক্রমেই আমাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে।” তিনি দাবি করেছিলেন, রাজারাজ চোল হিন্দু রাজা ছিলেন না। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ভারতে আসার পর হিন্দু শব্দের উৎপত্তি হয়েছে। খ্রিস্টীয় অষ্টম শতকের একজন শাসকের হিন্দু বলা কতটা যুক্তিগ্রাহ্য তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এ নিয়ে পাল্টা মন্তব্য করেন তেলেঙ্গানার রাজ্যপাল তামিলিসাই সৌন্দরারাজন। তার অভিযোগ, তামিলনাড়ুর বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের হিন্দু পরিচয় লুকিয়ে রাখার চেষ্টা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে ভেত্রিমারানের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন দক্ষিণের তারকা কমল হাসান। তিনিও দাবি করেন, রাজা চোলের শাসনকালে হিন্দু ধর্ম বলে কিছু ছিল না। তার কথায় বইনবম, শিবম ও সমনাম, এই তিন গোষ্ঠীর কথা জানা যায়। যাদের এক ছাতার তলায় এনে পরবর্তীকালে হিন্দু বলে চিহ্নিত করেছিল ব্রিটিশরা।
কিন্তু এই মন্তব্যের পর বিজেপির নেতা এইচ রাজা বলেন, ভেত্রিমারান কি রাজ আমলের তৈরি দুটি গীর্জা বা মসজিদের নাম বলতে পারবেন? নিজেকে শিবপদ শেকরআন বলে অভিহিত করতেন রাজারাজ তার পরেও তিনি হিন্দু নন?
জানা যায়, রাজা চোলের নির্দেশেই থাঞ্জাভুর তৈরি হয়েছিল বৃহদেশ্বর মন্দির। সেই শিবের মন্দির আজও দ্রাবিড় শিল্প স্থাপত্যের উৎকৃষ্ট নিদর্শন বহন করে চলেছে। সম্প্রতি একে হেরিটেজের তকমা দিয়েছেন ইউনেস্কো।
নিজেকে শিবপদ শেকরন বলে অভিহিত করতেন রাজারাজ। যারা অর্থ যিনি নিজের মাথার রাজমুকুট শিবের চরণে রাখেন। শিবভক্ত হলেও তিনি বেশকিছু বিষ্ণুমন্দির তৈরি করেছিলেন বলে জানা যায়।

