আমাদের ভারত, ১০ এপ্রিল: বরাবর বিজেপিকে বহিরাগত পার্টি বলে তৃণমূল তোপ দেগে এসেছে। বিশেষত ভোট এলেই তৃণমূলের প্রধান অস্ত্র হয়ে ওঠে বিজেপির বিরুদ্ধে বহিরাগত ইস্যু। তৃণমূল বারবার বলে, বিজেপি দিল্লি- গুজরাটের পার্টি। শুক্রবার দলের ইশতেহার প্রকাশের মঞ্চ থেকে তার পাল্টা জবাব দিয়েছেন অমিত শাহ। তিনি জানান, বাংলায় পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন বাংলার মাটির সন্তান।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারতন্ত্র চালাচ্ছেন বাংলার রাজনীতিতে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে অমিত শাহ এদিন পরিবারবাদ নিয়ে তৃণমূলকে তুলোধনা করেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে তিনি বলেন, আমরা কোনো পরিবারবাদ করি না, যে একজনের পর আরেকজন ভাইপো মুখ্যমন্ত্রী হবে। অমিত শাহ’র স্পষ্ট বার্তা, বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী কোনো বংশনপরম্পরায় রাজনীতি করে আসা ব্যক্তি হবেন না, বরং বাংলার বাসিন্দা কোনো বাঙালি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হবে।
এর পরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হতে শুরু করেছে কে হবেন বিজেপির মুখ্যমন্ত্রীর মুখ?
বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী কে হবে সে বিষয়ে শাহ এদিন কোনো নাম উল্লেখ না করলেও তার ইঙ্গিত পূর্ণ মন্তব্য, যিনি হবেন তিনি একজন অত্যন্ত শক্তিশালী নেতা এবং দক্ষ সংগঠকই হবেন। অর্থাৎ ২০২৬-এর লড়াইয়ে বিজেপি যে কেবল ইশতেহার ও ভাতার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে তাই নয়, বরং একজন হেভিওয়েট ভূমি পুত্রকে সামনে রেখে ময়দানে নামতে চাইছে পদ্ম শিবির, সেটা স্পষ্ট হয়ে গেছে।
একই সঙ্গে এই বক্তব্যের মাধ্যমে দলীয় মতান্তরও কিছুটা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলেন বলেও মত অনেকের। আগে দক্ষিণ কলকাতার হাইপ্রোফাইল কেন্দ্রের প্রচারে বেরিয়ে বিজেপি কর্মীদের পাল্টা স্লোগান ঘিরে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। শুভেন্দুকে সামনে রেখে গেরুয়া শিবিরের একাংশ এদিন গলা ফাটান, ভবানীপুরে জিতবে কে মুখ্যমন্ত্রী হবে সে।
বকলমে শুভেন্দুই কি তাহলে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী? রাজনৈতিক মহলেই প্রশ্ন যখন ঘোরাফেরা করছে তখন দলের আন্দোলনের সমীকরণ কিন্তু অন্য কথা বলছে। বিজেপির একটি অংশ এখনই শুভেন্দুকে মুখ হিসেবে মানতে নারাজ। বিশেষ করে দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা খড়্গপুর সদরের প্রার্থী দিলীপ ঘোষের মন্তব্য এই জল্পনা আরো এক ধাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী প্রসঙ্গে দিলীপবাবু চিরাচরিত কায়দাতেই বলেন, কে প্রার্থী হবেন তা ভোটের পর দেখা হবে। দলের পদ্ধতি আপনারা জানেন, আগে থেকে কোন ঘোষণা হয় না। অনেক সময় এমন কেউ মুখ্যমন্ত্রী হন যার মুখ কেউ আগে থেকে চেনে না। অন্যদিকে শুভেন্দু নিজেও জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী কে হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে দল।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন শাহর আজকের মন্তব্য আসলে তৃণমূলের বাংলার মেয়ে বা বহিরাগত প্রচারের পাল্টা ঢাল। একদিকে পরিবারবাদের খোঁচা, অন্যদিকে বাঙালির আবেগকে মর্যাদা দেওয়া। এই দুই রণকৌশল নিয়েই যে এবার বঙ্গ জয়ের ছক কষেছে দিল্লি তা স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে ধাপে ধাপে।

