রাজেন রায়, কলকাতা, ১২ এপ্রিল: চতুর্থ দফা ভোটের দিন কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলি চালানোর ঘটনা ইতিমধ্যেই শোরগোল ফেলেছে রাজ্য রাজনীতিতে। রবিবার বরানগরে দিলীপ ঘোষ বলেন, বেশি বাড়াবাড়ি করলে জায়গায় জায়গায় শীতলকুচি হবে। তার এই বক্তব্য ফ্যাসিস্ট মনোভাবের পরিচায়ক বলে অভিযোগ করেছিল বাম এবং তৃণমূল। রাজ্য সম্পাদক সায়ন্তনের গলায় শোনা যায়, “বেশি খেলা খেলতে যেও না, শীতলকুচির খেলা খেলে দেব।” সোমবার ফের আরও এক বিতর্কিত মন্তব্য করলেন হাবড়ার বিজেপি প্রার্থী রাহুল সিনহা।
তিনি বলেন, “চার নয়, আটজনকে গুলি করে মারা উচিত ছিল। ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা একটা ছেলেকে যারা গুলি করেছে, তাদের নেত্রী আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।” তবে শুধু এটুকু বলেই থামেননি তিনি। নিজের বক্তব্যকে সমর্থন করে তিনি বলেন, ‘মমতার দিন শেষ হয়ে গিয়েছে। মস্তানরাজ কায়েম করে গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে চলেছেন। শীতলকুচিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী ঠিক কাজ করেছে। তাদের উপর বোমা ছোঁড়া হচ্ছে। আবারও গোলমাল করলে এই জবাবই দেবে। আটজনকে গুলি করে মারা উচিত ছিল। কেন চারজনকে মারল? এর জন্য বাহিনীকেই শোকজ করা উচিত।”
আর বারবার বিজেপি নেতাদের মন্তব্য হাতিয়ার তুলে দিয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরে। সেদিন কেন্দ্রীয় বাহিনী গুলি চালানোর ঘটনায় যে পরোক্ষে বিজেপির মত ছিল, তা বারবার বিজেপি নেতাদের মন্তব্যে পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে বলেই মত তৃণমূল নেতাদের। তাদের দাবি, বিজেপি আসলে যে খুনের রাজনীতি করার জন্য ক্ষমতা দখল করতে চায় তা পরিষ্কার হয়েছে দিলীপ রাহুল সায়ন্তনের মন্তব্যে। তৃণমূলের বিদায়ী মন্ত্রী তাপস রায় বলেন, বিজেপি চিরকালই হিংসার রাজনীতি করে। এবারও তা স্পষ্ট হয়ে গেল। রাহুল সিনহার মন্তব্যের চরম নিন্দা করেছেন যাদবপুরের বাম প্রার্থী সুজন চক্রবর্তীও।

