আমাদের ভারত, ১ সেপ্টেম্বর: উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন নিয়ে রাজ্য সরকারের কোনও হেলদোল নেই। তারা উত্তরবঙ্গকে বঞ্চিত করে রেখেছে। তাই উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের জন্য আরও বেশী করে কাজ করতে হবে। মূলত এই দাবি নিয়েই বুধবার শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি ভবনে উত্তরবঙ্গ বিধায়ক সম্মেলনের আয়োজন করে বিজেপি।
সম্মেলনে উত্তরবঙ্গের মানুষের দাবি নিয়ে আলোচনা হয়। সাংসদদের সাথে নিয়ে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে গরহাজির থাকলেন মালদার গোপাল চন্দ্র সাহা, কুমারগ্রামের মনোজ ওরাও, বালুরঘাটের অশোক লাহিড়ি, গঙ্গারামপুরের সতেন্দ্রনাথ রায় সহ হাবিবপুরের জোয়েল মুর্মু। তা নিয়ে যথেষ্ট চিন্তায় পড়ে যায় গেরুয়া শিবির। প্রত্যকের সাথে যোগাযোগ করেন উত্তরবঙ্গের আহ্বায়ক মনোজ টিগ্গা। বৈঠক শেষে জাতীয় মুখপাত্র তথা দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা বলেন, বালুরঘাট ও গঙ্গারামপুরের বিধায়করা জানিয়েছিলেন তারা আসতে পারবেন না। তবে বাকিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গিয়েছে তাদের পারিবারিক সমস্যার জন্য আসতে পারেনি। খুব অল্প সময়ে ডাকা এই বৈঠকে সকলকেই উপস্থিত থাকতে হবে তেমন কোনও হুইপ জারি করা হয়নি। কিন্তু তারপরেও ২৪ জন এসেছেন। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি উত্তরের ২৯ জন বিধায়ক একসাথে আছে। কারণ আমরা কেউ পদের জন্য কিংবা চেয়ারের জন্য রাজনীতি করি না। যারা দল ছেড়ে যাচ্ছে তারা লোভের রাজনীতি করে। আর বিজেপি দলটা এতটাই বড় যে দুই একজন চলে গেলে কিচ্ছু হবে না। আগামীতে আমরাই রাজ্যের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়ব।

এদিকে উত্তরবঙ্গকে পৃথক রাজ্যের দাবিকে ঘুরিয়ে সমর্থন করলেন রাজু বিস্তা। তার বক্তব্য উত্তরবঙ্গের প্রতি যে অন্যায়, অত্যাচার হয়েছে তার জন্য এই এলাকার মানুষ এই দাবি করেছেন। এটা গণতান্ত্রিক দেশ এখানে সকলে নিজের দাবির কথা বলতেই পারে। তবে যদি আগামীতে এই পরিস্থিতি আসে তাহলে মানুষের দাবি নিয়ে আমরা বিধানসভা, সংসদে সরব হবই। কারণ আমরা আর উত্তরবঙ্গের প্রতি অন্যায় হতে দেব না। আমরা এখানকার মানুষের সাথে আছি। বৈঠকেও আমরা তাই আলোচনা করেছি যে উত্তরবঙ্গের প্রতি কোনওরকম বঞ্চনা হলে আমরা আন্দোলন করব। এই সরকার বিজেপির বিধায়কদের কাজ করতে দিচ্ছে না। এ যেন তালিবানি সরকার চলছে। তবে আমরা চাই তরাই-ডুয়ার্স-পাহাড়ে শান্তি বজায় থাকুক। তার জন্য স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান একমাত্র পথ। আর কেন্দ্র সরকার এবিষয়ে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ডেকেছে। সেই বৈঠকে রাজ্য সরকারেরও উপস্থিত থাকা উচিত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি গোর্খাদের দাবি নিয়ে ভাবে তাহলে তিনি এই ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে নিশ্চয়ই যোগ দেবেন।

