পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১০ জানুয়ারি: আমারা কেউ নেতা নই, সবাই দলের কর্মী। দিদির কর্মী, দিদির দূত। কেউ নিজেকে নেতা ভাববেন না। সে তিনি যত বড়ই পদাধিকারী হন। মঙ্গলবার সবং ব্লক তৃণমূল কার্যালয়ে দিদির সুরক্ষা কবচ নিয়ে কর্মিসভায় এভাবেই তাঁর কথা তুলে ধরলেন রাজ্যের মন্ত্রী মানস ভুঁইঞা। ১৩ টি গ্রাম পঞ্চায়েত ও ৫৫০ টি বুথের দায়িত্বে থাকা নেতা – কর্মীদের নিয়ে এদিন বৈঠক করেন মন্ত্রী। উপস্থিত ছিলেন ঘাটাল সাংগঠনিক চেয়ারম্যান অমল পান্ডা, সভাপতি আশীষ হুদাইত, প্রাক্তন বিধায়ক গিতারানী ভুঁইঞা, ব্লক সভাপতি আবু কালাম বক্স, যুব নেতা তরুণ মিশ্র।
মানস ভুঁইঞা জানান, ২ জানুয়ারি নজরুল মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি যে কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন তাঁরা দলের অনুগত কর্মী হিসেবে দিদির দূত হয়ে তা দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছে দেবেন। কর্মীদের তিনি বলেন, বাড়ি বাড়ি যান, গিয়ে জিজ্ঞেস করুন যে ১৫ টি প্রকল্পের কথা বলা হয়েছে এর সুবিধা পেতে কারো কোনো অসুবিধা হচ্ছে কিনা? জিজ্ঞেস করুন তাঁর বাড়ির ছেলে মেয়েরা সবুজ সাথীর সাইকেল পেয়েছে কিনা? কন্যাশ্রী পেয়েছে কিনা? লক্ষ্মীর ভান্ডার, জয় জোহার পেনশন পাচ্ছেন কিনা? কারো ভোটার কার্ডে ভুল থাকলে কিভাবে সংশোধন করতে হবে জানিয়ে দিন। দুয়ারে রেশন পেতে কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা জানতে চান। দেখবেন মানুষ ধন্য ধন্য করবে। আরো আপন করে নেবেন। সেই পরিবারকে জানিয়ে দিন ‘আমরা দিদির দূত’। দিদির সুরক্ষা কবচ সেই পরিবারের পাশে রয়েছে। বিধায়ক হিসেবে তিনিও গ্রামে গ্রামে যাবেন। রাত কাটাবেন।
পরে এক সংবাদিক বৈঠকে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, একশো দিনের ৬৭৫০ কোটি টাকা, রাজ্যের শেয়ার ১ লক্ষ ১৮ হাজার কোটি টাকা আটকে রেখেছে। কেলেঘাই – কপালেশ্বরী প্রকল্পের টাকা ও ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের টাকা দিচ্ছে না।
আবাস প্লাসে রাজ্যের কয়েক লক্ষ প্রকৃত গরিবের নাম বাদ পড়ার জন্য বঙ্গ বিজেপিকে দায়ী করে তিনি বলেন, ২০১৮ সালে যখন তালিকা প্রস্তুত হয়েছিল তখন রাজ্যের কোনো গ্রাম পঞ্চায়েতে শপথ নেননি পঞ্চায়েত প্রধান বা অন্যরা। কেন্দ্র সরকার তড়িঘড়ি করে তালিকা প্রস্তুত করতে বলায় এতে কিছু ত্রুটি থেকে যায়। এজন্য বিজেপিই দায়ী। মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন যেসব প্রকৃত গরিবের নাম বাদ পড়েছে রাজ্য সরকার তাদের বাড়ি বানিয়ে দেবে।

