আমাদের ভারত, কলকাতা, ২৯ জুন: শিকড়ের টানে বাংলায় এক হাজার অক্সিজেন কনসেনট্রেটর পাঠালেন অনাবাসী ভারতীয়। মার্কিন মুলুকে বসবাসকারী ডঃ প্রদীপ ঘোষ এই বিরল কৃতিত্বের কাজ করেছেন। ৩৫০টি কনসেনট্রেটর পাঠানো হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য দপ্তরকে। আজ নিউটাউনে একটি অনুষ্ঠানে রাজ্যের নবনির্বাচিত বিধায়কদের হাতে তুলে দেওয়া হয় করোনা কালে অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়া ওই মেশিন।
শুধু তাই নয় এবার লালবাজার সহ থানাগুলিতে থাকবে অক্সিজেন কনসেনট্রেটর। প্রদীপবাবু বিধান নগর কমিশনারেটের আওতাধীন নিউটাউনের তেকনোসিটি থানা, ইকোপার্ক থানা ও নিউটাউন থানায় মোট কুড়িটি অক্সিন অক্সিজেন কনসেনট্রেটর পাঠিয়েছেন। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে রাজারহাট অঞ্চলের তৈরি হওয়া ১০টি সেফ হোম সহ মন্ত্রী সুজিত বসু এবং বিধায়ক অদিতি মুন্সির হাতে তুলে দেওয়া হয় বিনামূল্যে ৮০ টি কনসেনট্রেটর।
জন্মভূমির টানে সুদূর মার্কিন মুলুক থেকে অক্সিজেন কনসেনট্রেটর পাঠিয়েছেন রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনের এই কৃতী ছাত্র। হাভার্ড থেকে পাশ করা অর্থনীতিবিদ প্রদীপ কুমার ঘোষ চান এ দেশে তাঁর একটা স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান গড়তে। যে প্রতিষ্ঠান করোনার মতো দুর্দিনে মানুষের কাজ করবে।
তখন তার বয়স সবে মাত্র ২০ বছর। উত্তর ২৪ পরগনার খড়দহ থেকে সোজা পাড়ি দেন মার্কিন মুলুকে। সেই কবেকার কথা! ১৯৬৮ সালে মার্কিন মুলুকে স্নাতক পড়তে তার বিদেশযাত্রা। নিউইয়র্ক স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে ইকনমিক্সে ডক্টরেট। তাঁর লেখা বই বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্যতালিকার অন্তর্গত। ২২ বছর সেখানকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন। শুধু পড়াশোনাই নয় বাঙালির সনাতনী ঐতিহ্য-আচারকেও সে দেশে তুলে ধরেছেন। ওয়াশিংটনে কালী মন্দিরের প্রতিষ্ঠা করেছেন প্রদীপবাবু।

আসলে এ দেশের সঙ্গে নিজেকে প্রতিনিয়ত বেঁধে রাখতে চেয়েছেন মানুষটি। স্ত্রীও বাঙালি। দক্ষিণ কলকাতার বিজয়গড়ের মেয়ে। বাংলার প্রতি তাই টানটা সবদিক থেকে। তাই বাংলায় এক হাজার অক্সিজেন কন্সেনট্রেটর পাঠিয়েছেন। যেগুলি রাখা আছে নিউটাউনের থানার অদূরে একটি বেসরকারি শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠানে। যার মধ্যে ৩৫০টি অক্সিজেন কনসেনট্রেটর তিনি রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরকে পাঠিয়েছেন। ১০০ জনের বেশি বৈজ্ঞানিক কাজ করছেন জনস্বাস্থ্য নিয়ে তাঁর তৈরি ইনস্টিটিউটে। কী করে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গির মত রোগ সারানো সম্ভব তার উপায় খুঁজে বের করছেন তারা। সে তালিকায় এখন করোনাও যুক্ত হয়েছে।

