মনোনয়নেই ভয়াবহ ঘটনা! প্রকাশ্যে পকেটে পিস্তল নিয়ে ঘুরছে তৃণমূল কর্মী, ভোটে তাহলে কী হবে? ভিডিও পোস্ট করে সরব সুকান্ত

আমাদের ভারত, ১০ জুন: পঞ্চায়েত ভোটের মনোনয়নের প্রথম দিনেই মুর্শিদাবাদের খড়গ্রামে এক কংগ্রেস কর্মীকে বাড়িতে ঢুকে খুন করা হয়েছে। ঘটনায় তৃণমূলের দুই কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে ডোমকলে মনোনয়ন ঘিরে সকাল থেকেই অশান্তি ছড়িয়েছে। সেখানে এক তৃণমূল কর্মীর প্রকাশ্যে পিস্তল নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর মতো মারাত্মক ভিডিও পোস্ট করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে ব্যর্থ বলে আখ্যা দিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবিতে সরব হয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।

প্রকাশ্যে এক ব্যক্তির পকেট থেকে পিস্তল উদ্ধার করছে পুলিশ। এমনই একটি ভিডিও নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে পোস্ট করে সুকান্ত মজুমদার আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, এখনই যদি এই অবস্থা হয় তাহলে নির্বাচনের দিন কি হবে? তিনি লিখেছেন, “মনোনয়ন পর্বেই এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটলে নির্বাচনের দিন কি ঘটতে চলেছে ব্যর্থ মুখ্যমন্ত্রী?” এরপরই তিনি কেন্দ্রীয় বাহিনী নামিয়ে ভোট করার পক্ষে সাওয়াল করে লিখেছেন, “মুর্শিদাবাদে পকেটে পিস্তল নিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তৃণমূল নেতা। এরপরেও আপনি আর আপনার নির্বাচন কমিশনার বলবেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রয়োজন নেই?”

অন্যদিকে আজ সুকান্ত মজুমদারের নেতৃত্বে বঙ্গ বিজেপির একটি প্রতিনিধি দল রাজভবনে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে। সেখানে পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে নির্দিষ্ট করে দলের তরফে বেশ কিছু দাবি তারা জানান। দেখা করে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, মুর্শিদাবাদে খুন হাওয়া ব্যক্তি কংগ্রেসের কর্মী হলেও তিনি একজন বাংলার নাগরিক। ভোটের আগেই এই হিংসার পরিবেশ তৈরি করে বিরোধীদের ভয় দেখাতে চাইছে শাসক দল। তার অভিযোগ, মনোনয়ন পর্ব শুরু হয়েছে। বিডিও অফিসে মনোনয়ন দাখিলের কাজ হলেও সেখানে কোনো পুলিশের উপস্থিতি নাই। তার কথায় এভাবেই হিংসাকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবি তারা জানিয়েছেন রাজ্যপালের কাছে। তাঁর কথায়, এই বিপুল পরিমাণ পোলিং স্টেশন শুধুমাত্র রাজ্য পুশিশ দ্বারা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। রাজ্যে ৭৮ হাজার পুলিশ রয়েছে যা দিয়ে সবটা সামলানো যাবে না। বিজেপি নেতা বলেন, “আমরা বলেছি বিপুল পরিমাণ বুথে যদি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে হয়, তাহলে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ দিয়ে সম্ভব হবে না। কেন্দ্রীয় বাহিনী এখানে আনতে হবে।

একই সঙ্গে কন্ট্রাকচুয়াল যে কোনো কর্মচারীদের নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে বিরত রাখার দাবি তারা জানিয়েছেন রাজ্যপালের কাছে। নির্বাচনী বুথ এবং গণনা কেন্দ্রে সিসিটিভি রাখার দাবিও তারা জানিয়েছেন। বিগত দিনে যে বিভিন্ন হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে তার একটি তথ্য রাজ্যপালের কাছে বঙ্গ বিজেপির তরফে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সুকান্ত মজুমদার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *