ময়ূরেশ্বরে দুয়ারে মধ্যাহ্ন ভোজন পৌঁছে দিল স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা নইসুভা

আশিস মণ্ডল, বীরভূম, ২১ মে: সরকারের দুয়ারে রেশনের আদলে এবার দুয়ারে মধ্যাহ্ন ভোজন। এমনই উদ্যোগ নিয়েছে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। লকডাউনে অর্ধাহারে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়াতেই দুয়ারে ভোজনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা নইসুভার সম্পাদক সাধন সিনহা। ১৬ মে থেকে রাজ্যে আংশিক লকডাউন শুরু করেছে সরকার। ফলে কার্যত বন্ধ বাস, ট্রেন সহ বিভিন্ন যানবাহন। বন্ধ দোকানপাট। আংশিক লকডাউনের কারণে বহু কর্মহীন মানুষ অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন। পরিবারের একমাত্র সদস্য কাজ হারানোয় পুষ্টিকর খাবারের অভাব দেখা দিয়েছে বয়স্ক মানুষ গুলোর। এই সমস্ত পরিবারগুলিকে চিহ্নিত করে দুয়ারে দুয়ারে খাবার পৌঁছে দিতে শুরু করল মল্লারপুরের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা নইসুভা। শুক্রবার ময়ূরেশ্বর ১ নম্বর ব্লকের মল্লারপুর ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ফতেপুর পোঁরাপাড়া, গোয়ালা, মেটেলডাঙা ও বাহিনা গ্রামে ২০০ মানুষের হাতে রান্না করা দুপুরের খাবার পৌঁছে দেন সংস্থার সদস্যরা। প্রথম দিন খাবারের মেনুতে ছিল ভাত, ডাল, সবজি, চিকেন, দই, মিষ্টি।

সংস্থার সভাপতি সোমা পাঠক, সম্পাদক সাধন সিনহা’রা বলেন, “গত বছরে লম্বা লকডাউনেও আমরা মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে খাবার পরিবেশন করেছিলাম। এবার জেলা শাসক বিধান চন্দ্র রায় কিছু দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেছিলেন। সেই অনুরোধকে সম্মান জানিয়ে আমরা খাবার দুয়ারে পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। কারণ রন্ধনশালায় এসে অনেকের খাবার নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা নেই। অভাব থাকলেও কেউ কেউ লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার নিতে লজ্জা বোধ করত। গতবারের এই অভিজ্ঞতা থেকে এবার আমরা দুয়ারে দুয়ারে খাবার পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সেই মতো কাজ শুরু করা হয়েছে। চারটি গ্রামে পৃথক পৃথকভাবে রান্না করা হচ্ছে। সেখান থেকেই প্যাকেটে খাবার পৌঁছে যাচ্ছে বাড়ি বাড়ি। ৩১ মে পর্যন্ত এই সেবা চলবে”।

সংস্থার এই উদ্যোগে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বীরভূমের জেলা শাসক বিধান চন্দ্র রায়ের সহধর্মিণী ইন্দ্রাণী রায়, মল্লারপুর থানার ওসি ত্রিদিব প্রামানিক। শুধু রান্না খাবারই নয়, অর্থাভাবে যারা চাল ডাল কিনতে পারছেন না, সেই সমস্ত বাড়িতে শুকনো খাবারও পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন নামে একটি সংস্থার পক্ষ থেকে নইসুভার সহযোগিতায় গ্রামে গ্রামে গিয়ে আড়াই’শো পরিবারের হাতে শুকনো খাবারের প্যাকেট তুলে দেওয়া হয়েছে। প্যাকেটে রয়েছে পাঁচ কেজি চাল, এক কেজি ডাল, এক লিটার সর্ষে তেল, এক কেজি চিনি ও লবণ।

সাধনবাবু বলেন, “বেশ কিছু পরিবারের রান্না করার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু চাল ডাল ছিল না। এরকম আড়াই’শো পরিবার চিহ্নিত করে আমরা গ্রামে গিয়ে শুকনো খাবার পৌঁছে দিয়ে এসছি”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *