সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ২৭ জুন: পথে বেরোলেই কানে আসবে মাইকের শব্দ। চার দিকে মাইকের আওয়াজ, রীতিমতো কাহিল অবস্থা বনগাঁ শহরের মানুষের। স্কুল ঘরের দরজা-জানলা এঁটেও আওয়াজের হাত থেকে রেহাই মেলেনি পড়ুয়াদের। কোথাও রাস্তায় বিদ্যুতের খুঁটি, টেলিফোনের খুঁটিতে মাইক বাঁধা। কোনওটা অনুমতি নিয়ে বাজে। আবার কেউ কেউ সে সবের ধার ধারে না। সব মিলিয়ে শব্দের দৌরাত্ম্যে প্রাণ ওষ্ঠাগত শহরবাসীর সহ স্কুল পড়ুয়াদের।

অভিযোগ, প্রায় দেড় মাস পর সোমবার থেকে চালু হয়েছে স্কুল। আর সেই দিনই সকাল থেকে
বনগাঁজুড়ে মাইক বেঁধে তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের পার্টি অফিসের উদ্বোধন করছে শাসক দল। সকাল থেকে মাইকের শব্দে নাজেহাল হয়ে পড়ে পথ চলতি মানুষ। স্কুল পড়ুয়ারা দরজা জালনা বন্ধ করেও রেহাই পায়নি। স্কুলের পক্ষ থেকে মাইকের শব্দ কমাতে অনুরোধ করলেও তা শোনা হয়নি। প্রথম দিন স্কুলে এসেও লেখাপড়া বন্ধ করে বসে রইল পড়ুয়ারা। সোমবার ঘটা করে তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের পার্টি অফিসের উদ্বোধন হয়। বনগাঁ নিউমার্কেট চত্বরে। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল মন্ত্রী নেতা কর্মীরা। অনুষ্ঠান মঞ্চে বক্তব্য রাখলেন মন্ত্রী রথীন ঘোষ, আইএনটিটিইউসি সভাপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি গোপাল শেঠ, বাগদার বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস, বনগাঁ আইটিটিসি সভাপতি নারায়ণ ঘোষ সহ একাধিক নেতা। অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বনগাঁ শহরজুড়ে বাঁধা হয়েছিল মাইক। স্কুল চলাকালীন উচ্চস্বরে কান ফাটানো আওয়াজে নাজেহাল সাধারণ মানুষ থেকে স্কুলপড়ুয়ারা।

কুমুদিনী উচ্চবালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ইন্দ্রানী উকিল বলেন, আমাদের আর এই বিষয়ে বলার জায়গাই নেই। কারণ, শব্দ দূষণ আমাদের কাছে নতুন কিছু নয়, নিত্ত দৈনন্দিন সমস্যা। কারণ আমাদের স্কুল টা শহরের মাঝখানে। বাটার মোড়ে মাইক বাধলে সব থেকে সমস্যায় পড়ে আমাদের স্কুল। আজ সকাল থেকেই স্কুলের চারিদিকে মাইক বাধা ছিল। আমরা অনুষ্ঠানের কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলাম। সামনের দুই একটা মাইক বন্ধ ছিল। অন্য দিকে দরজা জালনা বন্ধ করে রেখে ক্লাস নেওয়া হয়েছে। বনগাঁ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক কুণাল দে বলেন, এই ভাবে মাইক চললে ক্লাস করাতে বা করতে সমস্যা হয়। কর্তৃপক্ষরা নিজেরা না বুঝলে কি করে হবে।
বনগাঁ সংগঠনিক জেলার আইএনটিটিইউসির সভাপতি নারায়ণ ঘোষ শব্দ দূষণের কথা অস্বীকার করে বলেন, যেখানে যেখানে স্কুল ছিল সেখানে মাইক বন্ধ করা ছিল।

