জে মাহাতো, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২০ জানুয়ারি: করোনা পরিস্থিতিতে পুরসভাগুলিতে কবে ভোট হবে সে বিষয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশন এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিলেও রামজীবনপুর পুরসভার তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ্যে চলে আসায় শোরগোল পড়েছে। গতকাল থেকে রামজীবনপুর পৌর এলাকায় সেই তালিকা ঘুরে বেড়াচ্ছে। পুরসভার এগারোটি ওয়ার্ডে কাদের প্রার্থী হিসাবে চাওয়া হচ্ছে তালিকায় তাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এই তালিকার সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্কই নেই। এটা বিরোধীদের চক্রান্ত ছাড়া কিছু নয়।
পুরসভার ১১টি ওয়ার্ডের প্রার্থীদের যে তালিকা সামনে এসেছে তার উপরে তৃণমূলের প্রতীক জোড়া ফুল আঁকা রয়েছে এবং লেখা রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস জিন্দাবাদ, মা মাটি মানুষ জিন্দাবাদ, মমতা ব্যানার্জি জিন্দাবাদ, অভিষেক ব্যানার্জি জিন্দাবাদ। এরপরই লেখা রয়েছে ‘আমরা কর্মী হিসেবে রামজীবনপুর পৌরসভার ভোটে এবার এই মানুষগুলোকে প্রার্থী হিসাবে চাই। ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা নেতৃত্বের কাছে আমাদের অনুরোধ রামজীবনপুর পুরসভার ১১টি ওয়ার্ডে এই ব্যক্তিরা প্রার্থী হলে আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডেই জয়লাভ করব। আমাদের মনের ইচ্ছা প্রকাশ করলাম। এর পরই ১১ জনের নামের তালিকা দেওয়া হয়েছে। এই তালিকা পোস্টার আকারে রামজীবনপুরের বিভিন্ন জায়গায় দেখা গেছে। যদিও পরে তা তুলে নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে রামজীবনপুর পুরসভার প্রশাসক নির্মল চৌধুরী বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এ কাজ বিরোধীরাই করে থাকতে পারে। তৃণমূল কর্মীরা এ কাজ কখনোই করতে পারে না। তৃণমূলের জেলা কমিটির সদস্য কল্যাণ তিওয়ারি বলেন, বিরোধীরা যতই অপপ্রচার করুক লাভ কিছু হবে না। তবে দলের কেউ এরকম কিছু করলে তা খতিয়ে দেখে নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেব। এসব করে কোনও লাভ নেই। উন্নয়নের ধারা বজায় রেখে এবারও আমরা ব্যাপক ভোটে জিতব।
তৃণমূল এই ঘটনার দায় বিরোধীদের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করলেও এ বিষয়ে বিজেপির রামজীবনপুরের মণ্ডল সভাপতি নন্দ নিয়োগী বলেন, “তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসে গিয়েছে। প্রার্থী তালিকা নিয়ে ওদের নিজেদের মধ্যে চরম মতবিরোধ রয়েছে। ওরা সকলেই পুরসভার চেয়ারম্যান হতে চায়। তাই কর্মীরা প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দিচ্ছে। আসলে তৃণমূলের অন্দরে কোনও শৃঙ্খলা নেই।

