আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ৯ সেপ্টেম্বর: পারিবারিক অশান্তির জেরে বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছিলেন গঙ্গায় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করতে। এজন্য গঙ্গা পার হয়ে শ্রীরামপুর থেকে এপারে এসেছিলেন এক গৃহবধূ। কিন্তু ঝাঁপ দেওয়ার আগেই তাঁকে বাঁচালেন উত্তর ২৪ পরগনার নোয়াপাড়া থানার পুলিশ কর্মী এবং উপস্থিত লোকজন।
জানাগেছে, ওই গৃহবধূর বাড়ি হুগলী জেলার শ্রীরামপুর এলাকায়। মাত্র ৯ মাস আগে বিয়ে হয়। তার স্বামী এক বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত। তবে পণ সামগ্রী দেওয়া নিয়ে বিয়ের পর থেকেই ওই গৃহবধূর সঙ্গে তাঁর শ্বশুর বাড়ির লোকজনের অশান্তি চলছিল। ওই গৃহবধূর দাবি, মঙ্গলবারও তাঁর উপর তাঁর শাশুড়ি অত্যাচার করে। তবে, স্বামীর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নেই। শাশুড়ির সঙ্গে ঝগড়া করে মঙ্গলবার সে হুগলি শ্রীরামপুর থেকে সোজা গঙ্গা হয়ে উত্তর ২৪ পরগনার ইছাপুরে পৌঁছয় ওই গৃহবধূ। এরপরই ইছাপুর নবাব গঞ্জের বিশ্বাস ঘাটে গঙ্গায় ঝাঁপ দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হন তিনি। ওই গৃহবধূকে গঙ্গা তীরে উপস্থিত স্থানীয়রা আটকানোর চেষ্টা করে। সেই সময় টহলরত নোয়াপাড়া থানার পুলিশের গাড়িও গঙ্গার ঘাটে দ্রুত পৌঁছে ঝাঁপ দেওয়ার আগেই ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে সোজা নোয়াপাড়া থানায় নিয়ে আসে।
থানায় বসিয়ে ওই গৃহ বধূর কাউন্সিলিং করেন পুলিশ কর্মীরা। জানা যায় ওই গৃহবধূর বিয়ে হয়েছিল মাত্র ৯ মাস আগে। বিয়ের ২ মাস পর থেকে পারিবারিক অশান্তি শুরু হয় শ্বশুর বাড়িতে। সেই অশান্তির জেরে মঙ্গলবার বাড়ি থেকে পালিয়ে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ইছাপুরে এসে সে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। মঙ্গলবার রাতেই ওই গৃহবধূর স্বামীকে হুগলি জেলা থেকে নোয়াপাড়ায় ডেকে পাঠায় পুলিশ। এরপর ওই গৃহবধূকে থানাতেই ভাত খাইয়ে তাঁর স্বামীর হাতে তুলে দেন পুলিশ কর্মীরা।

ওই গৃহ বধূ বলেন, “আমি একটা ভুল পদক্ষেপ নিতে চলেছিলাম। সেটা আমাকে পুলিশ কর্মীরা বুঝিয়েছেন। উনারা আমাকে সহযোগিতা করেছেন বলেই আমি এখানে এসেছি। আমি আর আত্মহত্যার চেষ্টা করব না।” গৃহবধূর স্বামী পুলিশ কর্মীদের কথা দেন আগামীদিনে স্ত্রীর খেয়াল রাখবেন। শেষ পর্যন্ত নতুন জীবন ফেরত পেয়ে নোয়াপাড়া থানার পুলিশ কর্মীদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে স্বামীর হাত ধরে নিজের বাড়িতে ফেরেন ওই গৃহবধূ। ওই গৃহবধূকে বাঁচিয়ে বাড়ি ফিরিয়ে দিতে পেরে ভীষন খুশী নোয়াপাড়া থানার পুলিশ কর্মীরা।

