আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট, ৬ সেপ্টেম্বর: তিন শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে ভোটের কাজে নিযুক্ত। এক শিক্ষক সাময়িক ছুটিতে। একজন শিক্ষক থাকলেও তিনি সময়ে স্কুলে আসেন না। ফলে শিকেয় উঠেছে স্কুলের পঠনপাঠন। প্রতিবাদে স্কুলের গেটে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ দেখালেন অভিভাবকরা। বিক্ষোভে সামিল হন পড়ুয়ারাও। খবর পেয়ে স্কুল অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক স্কুলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের মুরারই ২ নম্বর ব্লকের কামারখুর বর্ধনপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
ওই স্কুলে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ২৩৯ জন। স্কুলের পাঁচজন শিক্ষকের মধ্যে তিনজন দীর্ঘ দিন ধরে ভোটার তালিকা সংশোধন বিয়োজনের (বি এল ও) কাজে নিযুক্ত। দুই জন শিক্ষক স্কুলের চারটি ক্লাস নিচ্ছিলেন এতদিন। মঙ্গলবার আরও এক শিক্ষক ছুটিতে। ফলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুবোধ কুমার সাহা একাই স্কুলে আসছিলেন। কিন্তু মঙ্গলবার সাড়ে ১১ টার পর স্কুলে আসেন তিনি। তার আগেই স্কুলের গেটে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন অভিভাবক ও পড়ুয়ারা। সুবোধবাবু বলেন, “অনিয়মিত স্কুলে যাতায়াতের অভিযোগ ঠিক নয়। মঙ্গলবার স্কুলের কাগজপত্র জমা দিতে স্কুল পরিদর্শকের অফিসে গিয়েছিলাম। তাই স্কুলে পৌঁছতে কিছুটা দেরি হয়েছে। তাছাড়া ভোটের কাজে তিন শিক্ষককে তুলে নেওয়া হয়েছে। এক শিক্ষক এদিন ছুটিতে থাকায় সমস্যা হচ্ছে”।
মুরারই ২ নম্বর ব্লক অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক মেহেবুব হোসেন বলেন, “খবর পেয়ে স্কুলে গিয়েছিলাম। সমস্যার কথা বুঝতে পেরেছি। এরপরেই তিন শিক্ষককে ডেকে পাঠানো হয়। তিন শিক্ষক স্কুলে আসার পরেই স্কুলের গেটে তালা খোলা হয়”।
অভিভাবক রেজাউল করিম ও সালাম শেখরা বলেন, “এমনিতেই শিক্ষক সংখ্যা কম। যারা আছেন তাঁরাও নিয়মিত দেরি করে স্কুলে আসেন। ফলে পঠনপাঠন শিকেয়। তাই স্কুলের গেটে তালা ঝোলাতে বাধ্য হয়েছি”।

