ফি না মেটালেও কোনও ছাত্রছাত্রীকে স্কুল থেকে বিতাড়িত করা যাবে না, কড়া নির্দেশ হাইকোর্টের

রাজেন রায়, কলকাতা, ১ অক্টোবর: ২০২০ সালে করোনা আবহে চালু হয়েছিল পড়ুয়াদের অনলাইন ক্লাস। আর তারপরেই একের পর এক বেসরকারি স্কুলে বেআইনি ভাবে ফি-বৃদ্ধির অভিযোগ তুলেছিলেন অভিভাবকরা। শহরের স্কুলে স্কুলে চালু হয়ে গিয়েছিল বিক্ষোভ। ফি কমানোর দাবিতে হাইকোর্টে এই নিয়ে দায়ের হয়েছিল জনস্বার্থ মামলা। আর সেই মামলার রায়ে ফি কমানোর দাবি খারিজ করে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ধাপে ধাপে সেই ফি মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। যে রায় গিয়েছিল স্কুলগুলির পক্ষেই।

আর এবার নির্দিষ্ট সময়ে ফি মেটাতে না পারলে স্কুল থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে পড়ুয়াদের উঠেছে এমন অভিযোগও। একই সঙ্গে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষেও স্কুলগুলি আরও ফি বৃদ্ধি করেছে, বলেও দাবি অভিভাবকদের। আর সেই মামলাতেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেই হাইকোর্টের নির্দেশ, বেসরকারি স্কুলের বেতন নিয়ে যতই বিতর্ক থাকুক না কেন, কোনও ছাত্রছাত্রীকে স্কুল থেকে বিতাড়িত করা যাবে না। একই সঙ্গে পরীক্ষায় বসার সুযোগ দিতে হবে প্রতিটি ছাত্রছাত্রীকে। শুক্রবার স্কুল ফি মামলায় স্পষ্টভাবে এই নির্দেশ জানিয়ে দিল বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায় ও বিচারপতি মৌসুমী ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ।

আদালতের কাছে অভিভাবকদের অভিযোগ ছিল, অনেক পরিষেবা না দিয়েও সমস্ত পরিষেবার ফি একত্রিত করে মাসিক ফি হিসাবে ধার্য করে নেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে আদালত নির্দেশ দিল, বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে সেই বিল অভিভাবকদের কাছে পাঠাতে হবে। বিদ্যালয়গুলির বকেয়া ফি কত রয়েছে, তার তালিকা আদালতে পেশ করতে হবে। এছাড়াও হাইকোর্টের নির্দেশ, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে যারা বিদ্যালয় ফি জমা করেননি, তাদের বকেয়া ফির ৫০% অবিলম্বে জমা করতে হবে। বাকি ২৫% দুই সপ্তাহের মধ্যে জমা করতে হবে।

এদিন ফের এই মামলার শুনানিতেও অভিভাবকদের জন্য দুটি ভাগে বকেয়া বেতন মিটিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করল হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশ, ২৫ অক্টোবরের মধ্যে একদিকে অভিভাবকদের বকেয়া ফি মেটাতে হবে। অন্যদিকে যে বকেয়া নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, সেই অঙ্কের টাকাও স্কুলকে মেটাতে হবে। স্কুল ওই টাকা পৃথকভাবে জমা রাখবে মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত। ৫ অক্টোবরের পর স্কুলগুলি পৃথকভাবে কত টাকা কোন পড়ুয়ার থেকে পাওয়া গেল, এ ব্যাপারে তালিকা তৈরি করবে।

আগামী ৩ ডিসেম্বর পরবর্তী শুনানিতে সেই তালিকা জমা দিতে হবে আদালতকে। ৩ ডিসেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *