কোনও দল বা সংগঠন নয়, রায়গঞ্জে গ্রামের গরিব মানুষদের সাহায্য করলেন ক্ষিতীশ বর্মন

স্বরূপ দত্ত, উত্তর দিনাজপুর, ৩১ মে: “মানুষের তরে কাঁদিছে মানুষের প্রাণ,” এই উক্তিটাই যেন মর্মে মর্মে উপলব্ধি করছেন রায়গঞ্জ ব্লকের আবদুলঘাটা গ্রামের কয়েকশো দুস্থ খেটে খাওয়া দিনমজুর। সাধারন একজন মানুষ হিসেবে লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের মুখে অন্ন তুলে দিতে উদ্যোগী হয়েছেন আবদুলঘাটা গ্রামেরই বাসিন্দা ক্ষিতীশ বর্মন। গ্রামের প্রতিটি পরিবারের হাতে এই দুঃসময়ে তুলে দিলেন ১০ কেজি করে চাল ও ৫ কেজি করে আলু।

লকডাউনের জেরে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বহু দিনমজুর থেকে খেটে খাওয়া দিন আনি দিন খাই পরিবার। বিভিন্ন শহর এলাকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন খাদ্যসামগ্রী বিলি বন্টন করলেও গ্রামগঞ্জের মানুষরা এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। গ্রামের গরিব মানুষদের কাছে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিলেন রায়গঞ্জ ব্লকের বাহিন গ্রামপঞ্চায়েতের আবদুলঘাটা গ্রামের সাধারন একজন বাসিন্দা ক্ষিতীশ বর্মন। আবদুলঘাটা গ্রামের কয়েকশো দুস্থ গরিব দিনমজুর বাসিন্দাদের মধ্যে বিতরণ করলেন ৩০ কুইন্টাল চাল এবং ১৫ কুইন্টাল আলু। গ্রামের প্রায় প্রত্যেক গরিব অসহায় পরিবারের হাতে তুলে দিলেন ১০ কেজি করে চাল আর ৫ কেজি করে আলু। এই দুঃসময়ে খাদ্যসামগ্রী হাতে পেয়ে উপকৃত হলেন গ্রামের দুস্থ বাসিন্দারা।

লক্ষ্মী দেবশর্মা নামে এক দুস্থ বাসিন্দা জানালেন, লকডাউনে আমাদের কোনও কাজ নেই। কি করে খাব আমরা। এইসময় ক্ষিতীশবাবুর দানে আমরা ভীষণভাবে উপকৃত হয়েছি। ক্ষিতীশ বর্মনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন আবদুলঘাটা গ্রামের তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েতের সদস্য অমল মন্ডল।

সারাবছরই টুকটাক সমাজসেবার কাজে যুক্ত থাকা ক্ষিতীশবাবুর বার্তা এই অতিমারি করোনায় লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়া দুস্থ গরিব দিনমজুর গ্রামবাসীদের হাতে এইটুকু পরিষেবা তুলে দিয়েছেন। যাতে অন্তত কয়েকটা দিন তাঁরা পেটপুরে ভাত খেতে পারেন। ক্ষিতীশবাবু জানালেন, গ্রামের গরিব দুস্থ অসহায় মানুষদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে এই সামান্য উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি নিজেও একজন সাধারন মানুষ, তারই মধ্যে জোগাড় করে দুস্থ মানুষদের মধ্যে চাল ও আলু বিতরণ করলেন। তিনি চান আর্থিকভাবে সক্ষম ব্যক্তিরাও এই লকডাউনে গরিব দুস্থ মানুষদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *