আমাদের ভারত, বর্ধমান, ৩০ সেপ্টেম্বর: পুরসভার নির্বাচন ঘোষণার আগেই বর্ধমান পুরসভার ১৮ নং ওয়ার্ডে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী কে হবেন সেই নাম ঘোষণা করে দিলেন বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভার বিধায়ক খোকন দাস। আর বিধায়কের এই নাম ঘোষণার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের জেরে এমনিতেই কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন বিধায়ক খোকন দাস। তাই তিনি নিজের দলবল বাড়াতে কর্মীদের ভোটে টিকিট দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিতে শুরু করেছেন। যদিও তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বিধায়ক আবেগের বশে একথা বলেছেন। আসলে দলে কে প্রার্থী হবে সেটা ঠিক করবেন তৃণমূল নেতৃত্ব।
ঠিক কি ঘটেছে? দিন দুয়েক আগে বর্ধমানের ১৮ নং ওয়ার্ডে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী সম্মেলন ছিল। সেই সম্মেলনে যোগ দিতে যান বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক খোকন দাস। সেখানে পুরসভা নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা হয়। ওই সম্মেলনের মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিধায়ক খোকন দাস বলেন, এই এলাকার প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলার প্রদীপ রহমান সবসময় মানুষের জন্য কাজ করেছেন। দিনরাত মানুষের সঙ্গে থাকেন। পুরসভা নির্বাচনে তার টিকিট পাওয়া নিশ্চিত। তাই সকলের উচিত তাকে বিপুল ভোটে জেতানো যাতে এই এলাকায় আর কেউ দাঁড়ানোর সুযোগ না পায়।
বিজেপির বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের কনভেনার কল্লোল নন্দন বলেন, যেভাবে গোষ্ঠী কোন্দলের জেরে বিধায়ক কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন তাতে নিজের দলবল বাড়াতে বিধায়ককে নিজের দলের কর্মীদের নানা প্রতিশ্রুতি দিতে হচ্ছে। এখনো তো নির্বাচনের দিনক্ষণই ঘোষণা হয়নি। তার আগে কিভাবে একজন বিধায়ক তার নিজের দলের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। তৃণমূল কংগ্রেসে দলের পক্ষেই এটা সম্ভব।
বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাস বলেন, বিধায়ক ১৮ নং ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। তাই হয়তো আবেগে তার নাম বলে ফেলেছেন। কিন্তু কোন নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসে কে প্রার্থী হবে সেটা তো দল ঠিক করবে।

