আমাদের ভারত, ১১ ডিসেম্বর: শুক্রবারের নমাজ খোলা জায়গায় পড়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টর। এর আগে ২০১৮ সালে নমাজ পড়া নিয়ে সংঘর্ষের কারণে নির্ধারিত স্থানে নমাজের অনুমতি দিয়েছিল প্রশাসন। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত বেশি দিন আর কার্যকর যে থাকবে না তা মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর স্পষ্ট হয়ে গেছে।
খোলা জায়গায় নমাজ পড়া নিয়ে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষের আবহে মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন গুরগাঁও প্রশাসন দু’পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের পথ খুঁজে বের করবে। তাতে কারও অধিকার খর্ব করা হবে না। তবে সমাধান বের হওয়া পর্যন্ত সকলের উচিত নিজেদের বাড়িতে বা ধর্মীয় স্থানেই প্রার্থনা করা।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় খট্টর বলেন, “আমি পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছি, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে। ধর্মীয় স্থানে কেউ প্রার্থনা করলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই, কারণ প্রার্থনার জন্যই ধর্মীয় স্থান তৈরি। ইদ উপলক্ষেও এই কাজ করা উচিত নয়। তাই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত আমরা এই ধরনের কার্যকলাপ বরদাস্ত করব না।”
সরকারি জমিতে নমাজ পাঠ নিয়ে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির প্রতিবাদে বেশ কয়েকবারই উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে গুরগাঁওয়ে। বেশ কয়েকটি নমাজের স্থানে গোবর ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। মুসলিমদের নমাজ চলাকালীন জয় শ্রীরাম স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে আটটি জায়গায় নমাজের অনুমতি বাতিল করে দেয় গুরগাঁও প্রশাসন। গুরগাঁওয়ে নমাজ পড়ার জন্য মোট ৩৭টি নির্দিষ্ট জায়গা ছিল। তার মধ্যে আটটি জায়গার নমাজের অনুমতি বাতিল করা হয়েছিল। প্রশাসন জানিয়েছিল ওই আটটি জায়গায় নামাজ পড়া নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ রয়েছে সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নমাজ পড়ার ওই জায়গাগুলি কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি ছিল না। সেগুলি সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জায়গা। সেই কারণেই অভিযোগ পেয়ে এই পদক্ষেপ করেছেন তারা। একইসঙ্গে প্রশাসন জানিয়েছে, বাকি জায়গাগুলোতে যদি স্থানীয়রা অভিযোগ করেন তাহলে সেক্ষেত্রেও অনুমতি বাতিল করা হবে। গুরগাঁও প্রশাসন জানিয়েছে জনসাধারণ ব্যবহার করে এমন কোনো খোলা জায়গাতে নমাজ পড়তে হলে প্রশাসনের অনুমতি নিতে হবে।

