নেই নাকা চেকিং, জাতীয় সড়কের কাজের নামে পানাগড়- মোরগ্রাম সড়কে অবাধে চলছে অবৈধ পাথর বোঝাই ডাম্পার

জয় লাহা, আমাদের ভারত, দুর্গাপুর, ২৭ ডিসেম্বর:  নাকা চেকিং নেই। জাতীয় সড়ক নির্মাণের নামে অবাধে চলছে অবৈধ পাথর বোঝাই ডাম্পার। ভারি যান চলাচলে ভেঙ্গে পড়ছে সড়ক। প্রশ্ন উঠেছে, পরিবহন দফতর ও পুলিশের নজরদারিতে। নজিরবিহীন ছবি ধরা পড়ল পানাগড়-মোরগ্রাম সড়কের ওপর।  বীরভূমের পাঁচামী থেকে পুলিশ প্রশাসনের নজর এড়িয়ে চলছে ওভারলেডিং পাথর বোঝাই ডাম্পারের যাতায়াত।

প্রসঙ্গত, গত ২০১৪ সালে ধানবাদের বরোয়াড্ডা থেকে পানাগড়ের ধরলা মোড় পর্যন্ত প্রায় দেড়’শ কিলোমিটার রাস্তার ছয় লেন সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়। তারপর সম্প্রতি ধরলা মোড় থেকে পালশিট পর্যন্ত জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের কাজের অনুমোদন হয়। সেই মতো একটি বেসরকারি সংস্থা বরাত পেয়ে নির্মাণ কাজ শুরু করে। কাঁকসায় ও গলসীর সিমনোড় মোড় এলাকায় সড়ক নির্মাণের স্টক ইয়ার্ড তৈরী করেছে নির্মাণকারী সংস্থা। সেখানে পাঁচামী থেকে পাথর মজুতের কাজ চলছে জোরকদমে। দিনরাত চলছে পাথরের জোগান। পাঁচামী থেকে পানাগড় মোরগ্রাম সড়ক দিয়ে ডাম্পারে পাথর জোগানের কাজটি করছে এক পাথর ব্যাবসায়ী। ডাম্পারের সামনে ‘অন ডিউটি এনএইচ’ স্টিকার। পিছনে বেআইনীভাবে ওভারলোডিং পাথর। পরিবহন আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে অবাধে চলছে ওভারলোডিং পাথর বোঝাই ডাম্পার। প্রশ্ন, পাথর জোগানকারী ব্যাবসায়ী কিভাবে সরকারি সংস্থার নাম নিয়ে বেআইনী ওভারলোডিং পাথরের গাড়ি চালাতে পারে? সরকারি সংস্থার নাম নিয়ে কিভাবে চলছে বেআইনীভাবে পরিবহন? 

জাতীয় সড়ক দুর্গাপুর আঞ্চলিক প্রজেক্ট ডিরেক্টর স্বপন কুুুুমার মল্লিক জানান, “রাস্তা নির্মাণের কাজে এধরনের ওভারলোডিং নির্মাণ সামগ্রী জোগানের কোনও রকম অনুমোদন দেওয়া হয় না।” 

পরিবহন দফতর সুত্রে জানাগেছে, ৬ চাকার লরি ডাম্পার ১০ টন, ১০ চাকার লরি ডাম্পার ১৫ টন ও ১২ চাকার লরি ২০ টন পর্যন্ত পন্য বোঝাই করতে পারে। কিন্তু মুনাফার লোভে তার থেকে কয়েকগুন বেশি পাথার বোঝাই করে লরি ডাম্পার। প্রায় ৪০-৪৫ টন পর্যন্ত পাথর বোঝাই করে অবাধে যাতায়াত করছে। পাথরের ওপর কোনও ঢাকা দেওয়ার ব্যবস্থা নেই। ডাম্পারের অতিরিক্ত পাথর পড়ছে সড়কের ওপর। আর ওই পাথর থেকে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে। তেমনই বেহাল হয়ে পড়ছে সড়ক। খানাখন্দে ভর্তি হচ্ছে যেমন, তেমনই আবার রাস্তা বসে গিয়ে উঁচু ঢিপি হয়েছে মাঝে মধ্যে। বিপদজ্জনক দশায় পরিণত হচ্ছে সড়ক। আর প্রশ্ন এখানেই। সড়কের টেকসইয়ের জন্য ওভারলোডিং যানের ওপর নিষেধাজ্ঞা করা হয়। উল্টে ওই সড়কের ওপর দিয়ে সড়ক নির্মাণের নাম করে অবাধে ওভারলোডিং পাথর বোঝাই ডাম্পারের আনাগোনা। 

প্রসঙ্গত, রাজ্যে তৃতীয়বার তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর অবৈধ বালি ও পাথর বোঝাই যান চলাচল বন্ধে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার। সড়কের ওপর বিভিন্ন জায়গায় চলছে কড়া নাকা চেকিং। চলছে ধরপাকড়। ২ নং জাতীয় সড়কের ওপর বুদবুদের জেকে নগর এলাকায় রয়েছে নাকা চেকপোষ্ট। পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, পানাগড়-মোরগ্রাম সড়কের ওপর কাঁকসা থানা এলাকায় কোনও নাকা চেক পোস্ট নেই। তবে বীরভূমের ইলামবাজারে রয়েছে সড়কের ওপর টোলপ্লাজা। বীরভূম ও পশ্চিম বর্ধমান শুধু নয় উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগের অন্যতম সড়ক পানাগড়- মোরগ্রাম সড়কটি। প্রশ্ন,  ওইরকম একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে নাকা চেকিং নেই কেন?

আরও প্রশ্ন, মোটরভেহিক্যাল ও পুলিশ প্রশাসনের কড়া নজরদারির পরও কিভাবে বেরিয়ে আসছে ওইসব ওভারলোডিং পাথর বোঝাই ডাম্পার? যদিও এ বিষয়ে দুর্গাপুর অতিরিক্ত পরিবহন দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, সোমবার সন্ধে পর্যন্ত কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।” তবে আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেটের ডিসি (পূর্ব) অভিষেক গুপ্তা জানান, “যৌথ অভিযান করা হয়। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।”

পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক অরুণ প্রসাদ জানান, “নিয়মিত অভিযান হয়। এই বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই সড়কের ওপর তদন্তের জন্য টিম পাঠানো হচ্ছে।” 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *