আমাদের ভারত, ১২ ফেব্রুয়ারি: আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগই বিজেপির অন্যতম হাতিয়ার। রবিবার রাজ্যে জোড়া জনসভা থেকে সেই হাতিয়ারেই শান দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হলেন সুকান্ত। তাঁর হুঁশিয়ারি, যতই বড় হোক দিদির ভাই, চুরি করলে ধরবে সিবিআই, বাঁচার কোনো উপায় নাই।
পূর্বস্থলীর সভা থেকে কলকাতায় উদ্ধার দেড় কোটি টাকার প্রসঙ্গ তুলে আনেন সুকান্ত। তিনি বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে মনজিত সিং গেরেওয়ালের যোগ রয়েছে বলে দাবি কেন্দ্রীয় তদন্ত কারী সংস্থার। এই মনজিত সিং তৃণমূলের হিন্দি সেলের নেতা। এই মনজিত যিনি জিত্তি ভাই নামে পরিচিত। তার সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সুকান্ত। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, কোভিড সময়কালে যখন সব কোম্পানির আয় কমেছে তখন দিদির ভাইপো অর্থাৎ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোম্পানির আয় ছয় কোটি টাকা বেড়েছে। তার কাগজ পত্র সুকান্ত লোকসভাতেও দেখিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন কোন যাদুতে এই আয় বেড়েছে?
বিজেপির রাজ্য সভাপতি অভিযোগ করেন, বর্ধমানেও দিদির এক ভাই হুঙ্কার দেন। দিদির ওই ভাইকে খোকন বাবুর বদলে খোকন মিঞা বলাই ঠিক বলে দাবি করেন সুকান্ত। কারণ খোকন জোর গলায় বলেছিলেন, শুধু যেনো মুসলিমদের নামই ভোটার তালিকায় তোলা হয়, হিন্দুদের নয়। সেই খোকনও এখন বালির ব্যবসা করছে। এরপরই তিনি বলেন, “যতই বড় হোক দিদির ভাই, চুরি করলে ধরবে সিবিআই, বাঁচার কোনো উপায় নাই।”
পূর্বস্থলীর সভা থেকে কাটোয়ার বিধায়ক যিনি কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে গেছেন সেই রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের উদ্দ্যেশ্যেও হুঁশিয়ারি দেন সুকান্ত। বলেন, শুনেছি বিরাট সম্পত্তি বাড়িয়েছেন। তার ঠিক ঠিক হিসাব আছে তো? না হলে সিবিআই ইডির কাছে খবর দেবো।
একই ভাবে তিনি মেদিনীপুরের সভা থেকেও সরব হন ওই জেলার বিধায়ক অখিল গিরির বিরুদ্ধে। প্রসঙ্গত, এই বিধায়ক রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সম্পর্কে অসম্মান জনক কথা বলে সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছিলেন। সুকান্ত তার কথা মনে করিয়ে বলেন, স্বাধীনতার ৭৫ বছর পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও তাদের দল একজন জনজাতি সম্প্রদায়ের মহিলাকে দেশের সর্বোচ্চ পদে বসিয়েছেন, আর তৃণমূলের নেতারা সেই রাষ্ট্রপতির অসম্মান করেন। একই সঙ্গে বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী টুলু মন্ডলের প্রসঙ্গ তুলে সুকান্ত অভিযোগ করেন, তার দুই নম্বরি পয়সা এখন আবার ভাইপোর কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। এর বিরুদ্ধে অমিত শাহের কাছে অভিযোগ করে চিঠি দেবেন বলে জানান বিজেপির রাজ্য সভাপতি।

