আমাদের ভারত, মালদা, ২১ জুন: ফের রাজ্যজুড়ে প্রচার শুরু করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। গতকাল উত্তর দিনাজপুরের পর আজ মালদায় তৃণমূলের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। দিলীপ ঘোষ বলেন, যখন সিএএ নিয়ে এখানে লুঙ্গি বাহিনী প্রকাশ্যে আগুন জ্বালালো, বাস, স্টেশন জ্বালিয়ে দিল তখন ওদের বিরুদ্ধে একটাও এফআইআর করার হিম্মত হল না। এরা দেশদ্রোহীদের এখানে থাকার জায়গা দেয়, পার্টির সঙ্গে যুক্ত করে নেয়। আর দেশপ্রেমিকদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করছে। আমাদের বিরুদ্ধে ৩৫ হাজার মামলা করেছে। আজ যোগ দিবসে মালদার পুড়াটুলী বাঁধরোড এলাকায় বজেপির দলীয় কার্যালয়ে যোগ দিয়ে একথা বলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এদিন তিনি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিজেপি সভাপতি গোবিন্দ চন্দ্র মন্ডল সহ অন্যান্যরা।
কয়লা পাচার কান্ডে অভিযুক্ত তৃণমূল যুব নেতা বিনয় মিশ্র পালিয়ে গিয়ে বিদেশের নাগরিকত্ব নিয়েছেন। সেই প্রসঙ্গ তুলে দিলীপ ঘোষ বলেন, শুধু দেশদ্রোহীদের আশ্রয় দেওয়াই নয়, বিদেশের নাগরিকও এই পার্টির একজন পদাধিকারী। এই সরকার অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। অথচ আমাদের কর্মী সমর্থকদের নামে ৩৫ হাজার কেস করেছে। এতে সরকারের ওপর থেকে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস চলে যাচ্ছে। কারণ তাঁরা দেখছে এই সরকার দেশদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয় না, যারা দেশপ্রেমিক তাদের স্বাধীনতা কেড়ে নিচ্ছে। তাদের এই অপশাসনের বিরুদ্ধে হতাশ হয়ে গিয়ে অনেক মানুষ এখন নানান মন্তব্য করছেন। রাজ্য সকারের প্রতি দিলীপ ঘোষের পরামর্শ, সরকার তার দায়িত্ব পালন করুক।
আলিপুরদুয়ারের বিজেপির জেলা সভাপতির তৃণমূলে যোগদানের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে বলেন, আমিও শুনছি পার্টিতে আলোচনা চলছে। অনেক কার্যকর্তা তৃণমূলের অত্যাচার সহ্য না করতে পেরে ভয়ের পরিবেশ থেকে পালাতে চাইছেন। সবার সাথে যোগাযোগ রেখেছি আমরা। হাজার হাজার কার্যকর্তা কাজ করছেন। দু চারজন হয়তো এই চাপ নিতে পারছেন না।
কালিয়াচকে এক বাড়িতে চারজনকে খুন করা এবং বাড়তে সুড়ঙ্গ আবিস্কার হওয়া প্রসঙ্গে বিস্ফোরক মন্তব্য করে তিনি বলেন, এই রাজ্যে এমন ঘটনা কেন ঘটে? উগ্রপ্রন্থীদের রাজ্য হয়ে গেছে পশ্চিমবঙ্গ। তাই জঙ্গী সংগঠন এইভাবেই নাশকতার জন্য সংগঠন তৈরী করছে। সরকার সব কিছু জানে। কিন্তু উগ্রপ্রন্থীদের সরকার এটি। তাই এই রাজ্যে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।

আজ বিশ্ব যোগ দিবস উপলক্ষে সকালে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে যোগব্যায়ামে অংশ নেন দিলীপ ঘোষ।


