“সন্ত্রাসের তথ্য গোপন করতে থানায় অভিযোগ নেওয়া হচ্ছে না,” অভিযোগ দিলীপ ঘোষের

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ৬ জুন: নির্বাচনের পরই রাজ্যজুড়ে বিজেপি কর্মী সমর্থকদের উপর সন্ত্রাস হচ্ছে বলে অভিযোগ করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, এই সন্ত্রাসের রেকর্ড না রাখার জন্য থানায় কোনও অভিযোগ নেওয়া হচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে আমাদের আদালতের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। আজ পুরুলিয়ায় এই কথা বললেন তিনি।

নির্বাচনের পর এই প্রথম পুরুলিয়ায় আসেন দিলীপ ঘোষ। পুরুলিয়া শহরের দুলমিতে দলের লোকসভা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি ভোটের ফলাফল নিয়ে পর্যালোচনা করেন। এছাড়া আসন্ন পুরসভা নির্বাচন নিয়েও এক প্রস্থ আলোচনা করেন বলে জানা গিয়েছে। বৈঠক শেষে দিলীপ ঘোষ সংবাদ মাধ্যমের সামনে রাজ্যের সন্ত্রাস নিয়ে মুখ খোলেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের পর থেকেই বিজেপি কর্মীদের মারধর করা হচ্ছে। তাঁদের বাড়ি ছাড়া করা হচ্ছে। বাড়ি ঘর ভাঙ্গচুর করা হচ্ছে। ভাটপাড়াতে প্রায় রোজই বোমাবাজি হচ্ছে। বিজেপি কর্মী খুনও হয়েছেন। মারধর করা হচ্ছে। কিন্তু কোনও ক্ষেত্রেই পুলিশের কাছে গেলে তারা কোনও অভিযোগ নিচ্ছে না বলে দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করেন। তাঁর বক্তব্য আসলে, রেকর্ড না রাখার জন্যে পুলিশ অভিযোগ নিচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে তাঁদের এবং আদালত থেকেই স্বীকৃতি পাচ্ছে যে রাজ্যে সন্ত্রাস হয়েছে।

উল্লেখ্য, দেশের আইনজীবী, শিক্ষাবিদ, মহিলা আইনজীবী, এঁরা সবাই রাষ্ট্রপতির কাছে ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস নিয়ে অভিযোগ করেছেন। তাঁরা সিট গঠনের দাবি জানিয়েছেন। এই নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলাও হয়েছে। হাইকোর্ট একটি কমিটি গঠন করেছে যেখানে অভিযোগ জানানো যাবে। সেই প্রসঙ্গ তুলে এদিন দিলীপ ঘোষ বলেন, তাঁদের সন্ত্রাসের প্রমাণ রাখতে আদালতের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। এদিন তিনি ত্রাণ নিয়েও দলবাজির অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, “এতই যদি ক্ষমতা তাহলে কেন্দ্রের কাছে ভিক্ষে চাইছেন কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?”

বিজেপি যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি সৌমিত্র খাঁ’র দলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে বেড়িয়ে যাওয়া, হুগলীর বিজেপি কর্মীর অডিও ভাইরাল হওয়া এবং তৃণমূল থেকে আসা নেতাদের একাংশের যে পালাই পালাই রব উঠেছে সেই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষকে প্রশ্ন করা তিনি বলেন, “অনেকে ভিড়ের মধ্যে এসেছিলেন আমরা ডাকিনি। যাঁরা এসেছিলেন তাঁদের সন্মান দিয়েছি, জায়গা দিয়েছি। আমাদের বড় পরিবার। অনেকে অ্যাডজাস্ট করে থাকতে পারছেন না। তাঁদের অসুবিধা হচ্ছে, কষ্ট হচ্ছে। আমরা সবাইকে নিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত।” তবে তিনি এটাও বলেন যে, “হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে কোনও কার্যকর্তা বেরিয়ে গেলে কি খবর হতে পারে? এর থেকে বোঝা যাচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টির গুরুত্ব বেড়েছে।”

দলের স্থানীয় বিধায়ক সুদীপ মুখার্জির উদ্যোগে পুরুলিয়া বাস স্ট্যান্ডে অন্নপূর্ণা খাবার বিতরণ শিবির করা হয়েছিল। দলীয় বৈঠকের পর সেখানে যান তিনি। উৎসাহ দিতে সেখানে খাবার পরিবেশন করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *