আমাদের ভারত, ১ সেপ্টেম্বর: আফগানিস্তানে তালিবানি শাসন জারি হতেই একাধিক ফতোয়া জারি হয়েছে। মেয়েদের সেখানে উচ্চশিক্ষার অনুমতি দেওয়া হলেও কো-এডুকেশনের বিরুদ্ধে তালিবানি ফতোয়া জারি হয়েছে। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ছেলে ও মেয়েদের আলাদা আলাদা ক্লাস করার নির্দেশ দিয়েছে তারা। এবার সেই তালিবানি মানসিকতার ছাপ দেখা গেল ভারতেও। কো-এডুকেশনের বিরুদ্ধে সরব মুসলিম সংগঠন জামিয়াত উলেমা ই হিন্দ।
এই সংগঠনের শীর্ষ কর্তাদের দাবি, পরিবারের মেয়েদের উচ্চ শিক্ষার প্রয়োজন। তাই তাদের জন্য আলাদা স্কুল কলেজ তৈরি করতে হবে। অমুসলিম পরিবারের কাছে তাদের আবেদন ছেলেমেয়েদের একসঙ্গে পড়াশোনা করতে দেবেন না। এতে মেয়েদের অনৈতিক ও দুর্ব্যবহার থেকে দূরে রাখার যাবে। জামিয়াত উলামা–ই–হিন্দের এই মনোভাব প্রকাশ্যে আসতেই বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। জমিয়ত উলামা ই হিন্দ সংগঠনের কর্তা আরশাদ মাদানি বলেন, গোটা দেশে যে পরিস্থিতি চলছে তার বিরুদ্ধে কোনো অস্ত্র দিয়ে লড়াই করা সম্ভব নয়। এর বিরুদ্ধে লড়াই করার একমাত্র উপায় নতুন প্রজন্মকে উচ্চশিক্ষিত করা। তার কথায় স্বাধীনতার পর থেকে প্রায় সমস্ত সরকারি ক্ষেত্রে মুসলিমদের শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করি হয়েছে।
মাদানি আরও বলেন, মুসলিমরা শিক্ষিত হতে চায় না এটা সত্য নয়। তাহলে তারা মাদ্রাসা তৈরি করত না। এরপরই তার আবেদন, “আমি বারবার বলছি মেয়েদের শিক্ষিত হওয়া দরকার। আর আমিও মুসলিম ভাই-বোনদের কাছে আবেদন জানাচ্ছি মেয়েদের উচ্চশিক্ষিত করুন। তাদের জন্য স্কুল-কলেজ তৈরি করুন। তবে মেয়েদের ছেলেদের সঙ্গে পড়তে পাঠাবেন না।” তার এই মন্তব্যের পরেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকরা বলেছেন, তালিবানি মানসিকতার পরিচয় দিচ্ছে জামিয়াত উলেমা ই হিন্দ। ছেলেমেয়েদের মধ্যে ব্যবধান তৈরি করতে চাইছে তারা তাই একসঙ্গে পড়াশোনা বন্ধ করতেও ফতোয়া জারি করছে সংগঠনটি।

