অমরজিৎ দে, ঝাড়গ্রাম,১৭ জুলাই: রবিবার গোপীবল্লভপুর দুই নং ব্লকের পেঁকোঘাট কালী মন্দির প্রাঙ্গণে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে একুশে জুলাইয়ের প্রস্তুতি সভার আয়োজন করা হয়। ওই প্রস্তুতি সভায় বক্তব্য রাখেন তৃণমূল যুব কংগ্রেসের রাজ্য কমিটির সহ সভাপতি তথা বিধায়ক অভিনেতা সোহম চক্রবর্তি। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ঝাড়্গ্রামে আদিবাসীদের উন্নয়নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে কাজ করেছেন আর কোনো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী আদিবাসীদের উন্নয়নে সেই কাজ করেননি।

এদিন অভিনেতা সোহম চক্রবর্তি তাঁর ভাষণে বলেন, একুশে জুলাই কলকাতার ধর্মতলায় শহিদ তর্পন সমাবেশ হবে। লক্ষ লক্ষ মানুষ ধর্মতলার শহিদ তর্পণ সভায় সামিল হবেন। ওই সভার প্রধান বক্তা দলের নেত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তিনি যে দিক নির্দেশ দিবেন সেই দিক নির্দেশ মেনে আমরা চলবো। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, একুশে জুলাই মানে আবেগ, একুশে জুলাই মানে আন্দোলন একুশে জুলাই মনে নতুন দিশা, একুশে জুলাই মনে ভালোবাসা, একুশে জুলাই মানে নতুন দিক নির্দেশ, তাই ঝাড়গ্রাম জেলার মানুষ একুশে জুলাইয়ের সমর্থনে ধর্মতলার শহিদ তর্পণ সভায় শামিল হবেন। তিনি বলেন, রাজ্যে বাম সরকারের সময় ঝাড়গ্রাম জেলার কি অবস্থা ছিল আর বর্তমানে কি অবস্থা হয়েছে? ঝাড়্গ্রামে আদিবাসীদের উন্নয়নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে কাজ করেছেন আর কোনো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী আদিবাসীদের জন্য সেই কাজ করেননি। তিনি বার বার ঝাড়গ্রামে ছুটে এসেছেন প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে, ঝাড়গ্রামের উন্নয়নে বৈঠক করেছে। ঝাড়গ্রামে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ হয়েছে, নতুন সেতু হয়েছে। আর বিজেপি উন্নয়ন হয়নি বলে প্রচার করছে। যারা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে লোকসভা নির্বাচনে ভোট নিয়েছিল তাদেরকে মানুষ বিধানসভা নির্বাচনে উপযুক্ত জবাব দিয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র সুদীপ রাহা বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আদিবাসী বিরোধী বলে বিজেপি কোমর বেঁধে প্রচার শুরু করেছে। ওদের লজ্জা থাকা উচিত ছিল। কারা আদিবাসী বিরোধী। যখন আদিবাসী রাজ্য ঝাড়খন্ডে আদিবাসীদের বঞ্চিত করে অন্যকে মুখ্যমন্ত্রী করেছিল তখন কি বিজেপির মনে হয়নি আদিবাসীদের কথা? বাংলায় জয় জোহার, জয় বাংলা চালু করেছে কে? তাঁর নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আদিবাসীদের উন্নয়নে কাজ করছেন। আদিবাসী ছেলেমেয়েদের মাতৃভাষায় শিক্ষাদানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করেছেন। তাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রাক্কালে বিজেপি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আদিবাসী বিরোধী তকমা দিয়ে প্রচার শুরু করেছে। তিনি তীব্র ভাষায় বিজেপির ওই নোংরা রাজনীতির প্রতিবাদ করেন। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, আদিবাসী মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে রয়েছে। আগামী দিনেও থাকবে। আদিবাসীদের উন্নয়নে তিনি যেমন কাজ করছেন আগামী দিনেও করবেন। সাম্প্রদায়িক শক্তি বিজেপি বিভেদের রাজনীতি শুরু করেছে। তাই ঝাড়গ্রাম জেলা থেকে আওয়াজ উঠছে বাংলা থেকে বিজেপি হাত গোটাও বাংলা বাঁচাও। সেই সঙ্গে উপরাষ্ট্রপতি পদে রাজ্যপাল জগদীপ ধানকরের নাম ঘোষণা করেছে এনডিএ। যার ফলে বাংলা বাঁচলো বলে তিনি মন্তব্য করেন। ঝাড়গ্রাম জেলার সর্বস্তরের মানুষকে একুশে জুলাই কলকাতার ধর্মতলায় শহিদ স্মরণ সভায় যাওয়ার আহ্বান জানান সোহম চক্রবর্তি।
এদিনের সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র সুদীপ রাহা, ঝাড়গ্রাম জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি বিধায়ক দেবনাথ হাঁসদা, গোপীবল্লভপুরের বিধায়ক ডাক্তার খগেন্দ্রনাথ মাহাতো সহ তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা ও ব্লক কমিটির অন্যান্য নেতৃত্বরা।

