আমাদের ভারত, ১১ ফেব্রুয়ারি:দারিদ্রতা মানে খাবার, টাকা বা কোনো বৈষয়িক জিনিসপত্রের অভাব নয়। দারিদ্র একটি মানসিক অবস্থা। দরিদ্রতা নিয়ে এই মন্তব্য করেছিলেন রাহুল গান্ধী। আর এখন বিরোধীরা মোদী সরকারের বাজেট নিয়ে যখন সরব তখন সেই রাহুল গান্ধীর মন্তব্য মনে করিয়ে বিরোধীদের কড়া জবাব দিলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।
২০২২-র বাজেট নিয়ে কেন্দ্র সরকারের সমালোচনায় মুখর বিরোধীরা। তাদের অভিযোগ এবারের বাজেটে সাধারন মানুষের প্রাপ্তির ঝুলি শূন্য। দরিদ্রদের কথা একেবারেই ভাবা হয়নি। বিরোধীদের এই মন্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী পাল্টা প্রশ্ন করেছেন, “আপনারা কি সেই দারিদ্র্যের কথাই বলছেন? আপনারা চান আমি সেই দারিদ্র্যের কথাই বলি?” বিরোধীরা বলেছে বাজেটের দরিদ্রদের বাদ দেওয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে ২০১৩ সালে রাহুল গান্ধীর করা একটি মন্তব্যকে টেনে আনেন নির্মলা সীতারামন। তিনি বলেন, ২০১৩ সালে রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, দরিদ্র একটা মানসিক অবস্থা। দারিদ্রতা অর্থ, খাদ্য বা কোন বৈষয়িক জিনিসের অভাব নয়। কারো যদি আত্মবিশ্বাস থাকে তাহলে তিনি দারিদ্র কাটিয়ে উঠতে পারেন। সেই কথা উল্লেখ করে নির্মলা সীতারামন বলেন, “আমি কারও নাম উল্লেখ করছি না কিন্তু আপনারা জানেন আমি কার কথা বলতে চাইছি।” তিনি বিরোধীদের বলেন,”স্পষ্ট করে বলুন কী চান আপনারা? আমি কি এই দারিদ্র্যের কথাই বলি?”
স্বাধীনতার ৭৫ বছর উদযাপনকে অমৃত মহোৎসব বলেও উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদী। আগামী ২৫ বছরের সময়কালকে অমৃৎকাল বলে উল্লেখ করে নানা লক্ষ্যমাত্রা নির্দিষ্ট করেছে কেন্দ্র। কিন্তু কংগ্রেসের বর্ষিয়ান নেতা কপিল সিব্বল এই বিষয়ে মন্তব্য করেছেন ভারত কোন অমৃত কালের মধ্যে নেই। ২০১৪ সাল থেকে ভারত রাহু কালের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। সিব্বলের এই আক্রমণের জবাবে নির্মলা উল্লেখ করেন, রাহুকাল তখন ছিল যখন মন মোহন সিং সরকারের প্রস্তাবিত অর্ডিন্যান্স ছিড়ে দিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। ৬৫ বছর ধরে কংগ্রেস শুধু একটা পরিবারের আখের গোছানোর ছাড়া আর কিছুই করেনি। তাই এই আগামী ২৫ বছরের সময়টাকে অমৃতকাল বলে উল্লেখ করা উচিত বলেই দাবি করেন।
রাহুল গান্ধীর উদ্দেশ্যে নির্মলার করা এই মন্তব্যের প্রতিবাদ করেন শিবসেনা সাংসদ প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী। তার পাল্টা জবাবে নির্মলা বলেন, আমি কাউকে নিয়ে কোনো মশকরা করিনি। যিনি দরিদ্রদের নিয়ে মজা করেছেন আপনারা তাদের সঙ্গে রয়েছেন।

