মঠ ও মিশনের প্রতিবাদের পরেও অনমনীয় নির্মল, তোপ নেটানাগরিকদের

আমাদের ভারত, ১ জুলাই: মা সারদার সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তুলনা টেনে বিতর্কে জড়িয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল মাজি। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে উঠেছে যে, ‘মর্যাদাহানি’র অভিযোগ এনেছে খোদ বেলুড় মঠ কর্তৃপক্ষ। এর পর দলের মহাসচিব এবং দলের মুখপাত্রও সতীর্থের ওই বিতর্কিত মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন। এই পরিস্থিতিতেও মন্তব্য প্রত্যাহারে রাজি নন নির্মল মাজি। উলটে নিজের বক্তব্যের সমর্থনে সাফাই দিয়েছেন তিনি। বিতর্ক হলেও, শুক্রবারও নিজের বক্তব্যে অনড় তৃণমূলের এই চিকিৎসক নেতা।

তাঁর এই মনোভাবের খবর ফেসবুকে আসার ১৩ ঘন্টা পরে শুক্রবার সেই পোস্টে লাইক, মন্তব্য ও শেয়ার এসেছে যথাক্রমে ৩ হাজার ১০০, ১ হাজার ২০০ ও ৩৪। অপর একটি সংবাদ চ্যানেলের খবরের পোস্টে তিন ঘন্টায় লাইক, মন্তব্য ও শেয়ার এসেছে যথাক্রমে ৭৯৬, ৩১৪ ও ৬।

নির্মল মাজি বলেন, “আমি মনে করি এই শতাব্দিতে আমার কাছে মা সারদা, সিস্টার নিবেদিতা, মাদার টেরিজা, আমার চেতনা-চৈতন্য-আবেগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মা সারদা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন একঝাঁক তরুণ, মহাপ্রাণ, মহাজীবন মঠের শিষ্যদের। তাঁদের দিয়ে রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি মানুষের সেবায় নিবেদিত প্রাণ ছিলেন। আমার ঘরের দুর্গা আমার মা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে আমি দেখি মা সারদাকে, মাদার টেরিজাকে, সিস্টার নিবেদিতাকে। তিনি একঝাঁক কর্মযোগী, যুবক-ছাত্র-কিছু মধ্যবয়স্ক লোককে নিয়ে, বাংলার দরিদ্র মানুষ, যাঁদের নুন আন্তে পাত্তা ফুরোয়, গ্রামের গরিব মানুষ, সকলের কাছে সবুজের শ্যামলিমায় পূজিত হন।”

এখানেই শেষ নয় তিনি আরও জানান, দাক্ষিণাত্যের একজন আধ্যাত্মিক পুরুষ তাঁকে বলেছেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যেই মা সারদা রয়েছেন। কে সেই আধ্যাত্মিক পুরুষ? যদিও সেই প্রশ্নের উত্তর দেননি নির্মল মাজি।

তিনি বলেন, “আমি কোনও বিতর্কে যাব না। একজন আধ্যাত্মিক পুরুষ আমাকে এ কথা বলেছেন। আমি তাঁকে বিশ্বাস করি। এটা গল্প নয়, ওঁর অনুভূতি। আমি তো মা সারদাকে দেখিনি। আর মঠের যিনি বলেছেন তিনিও দেখেননি।” 

সম্প্রতি এক সভায় নির্মল মাজি বলেন, “মা সারদা দেহত্যাগের আগে বিবেকানন্দের সতীর্থদের কাছে বলেছিলেন, আমার মৃত্যুর পর আগামী জন্মে আমি কালীঘাটের কালীক্ষেত্রে মনুষ্য জন্ম নেব। আমি সামাজিক কাজকর্মের পাশাপাশি রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে যাব। পরিসংখ্যান নিয়ে দেখা গেছে, সারদা মায়ের মৃত্যুর পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম, সেই অঙ্কটা মিলিয়ে দিচ্ছে। তিনিই মা সারদা…।” 

শবর দাশগুপ্ত লিখেছেন, “ওর চিকিতসের প্রয়োজন গো, ওর চিকিতসের প্রয়োজন। ওকে কি যেন বলে ডিলিসিস না কি যেন, যেটা ওই তো কুকুরকে দিয়েছিল ওইটাই ওকেও দিতে হবে। তবেই ওর চেতনা হবে গো, তবেই ওর চেতনা হবে।“

শিবপ্রসাদ মন্ডল লিখেছেন, “কিছু মনে করবেন না ওর একটু বোতলের দোষ আছে তো তাই চটি চাটতে চাটতে মাথায় কোনো কাজ করে না। তাই মুখ দিয়ে একটু ঘেউ ঘেউ আয়াজ বেরিয়ে যায়।“

অরিন্দম বিশ্বাস লিখেছেন, “অরিজিনাল লেদারের চটি গিলে ফেলেছে মালটা।“ সুদীপ্ত ভট্টাচার্য লিখেছেন, “একটা বদ্ধ উন্মাদ। ওকে চিড়িয়াখানায় পাঠানো হোক। জানোয়ার কোথাকার।” সৌরভ মিত্র লিখেছেন, “মাঝিবাবুর কপাল ভালো।। উনি সনাতনী হিন্দুদের অপমান করেছেন তাই শরীর থেকে মাথা আলাদা হয়নি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *