গুরুগ্রামে বাঙালি অ্যাসোসিয়েশনের বর্ষবরণ

অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ১৬ এপ্রিল: শনিবার সন্ধ্যার পর একটা নতুন রূপ নিয়েছিল গুরুগ্রামের এই বাঙালিপাড়া। সেক্টর নাইনে গৌরীশঙ্কর মন্দিরে আর পাঁচটা দিনের চেয়ে ছিল অন্য পরিবেশ। বিশেষ উদ্যোগী ভূমিকা নেন সভাপতি আশিস কুমার দাশগুপ্ত। আট থেকে আশি— যেন সবার নিজের অনুষ্ঠান। গুনীজন সম্বর্ধনা, নাচ-গান, হইহই, আনন্দে, ভালোলাগার একটা পরিবেশে জমে উঠল মজলিস। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের দায়িত্বে ছিলেন দেবাশিস ব্যানার্জি ও অসীম সামন্ত।

আসলে এ দিন ছিল ওঁদের বর্ষবরণ উৎসব। ভেজিটেবল চপ আর চা সহকারে। অনেকে বাড়ি গেল খাবারের প্যাকেট নিয়ে।

একটি নামী সংস্থার অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিক মানস চক্রবর্তী জানান, “বহুকাল হল ঘর ছাড়া হয়েছি রোজগারের তাগিদে। এই গুরগাওঁকে আপন করতে হয়েছে নিরুপায় হয়ে। আমার মতো আরও অনেক বঙ্গসন্তান এই ভাবে চলে এসে পাকাপাকি ভাবে রয়ে গেছে। সর্বক্ষণ শুধু হিন্দি ও ইংরেজি। তাই বলে কি আমরা বাংলাকে ভুলে যেতে পারি? অথবা, আমাদের ছেলে-মেয়েরা কি একেবারেই ভুলে যাবে বাংলাকে? যদিও, বাড়িতে বাংলায় কথা হয়, তবুও ওদের কথায় ঢুকে পড়েছে হিন্দি।

১৯৮৬ সালে তৈরি হয় এই বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশন। প্রতি বছর হয় বর্ষবরণ উৎসব। দু’মাস আগে থেকেই শুরু হয় প্রস্তুতি। কী অনুষ্ঠান হবে, কী খাওয়া হবে? কাজ ভাগ করা হয় কে, কোন দায়িত্বে থাকবে। হল ভাড়া, রান্নার ঠাকুর, সাজানো, পোশাক ভাড়া — কত কি! গিন্নিদের উপর ভার পড়ে নাচ ও গানের তালিকা তৈরী করতে। ছোটদের রোজ রিহার্সাল। রবীন্দ্রনাথ তো থাকেনই, তাছাড়া নজরুল, সুকুমার রায় আর ছোটদের নাটিকা, বড়োদের গান, আবৃত্তি, শ্রুতি-নাটক। বাংলাকে ধরে রাখার অসীম চেষ্টা। দেবাশিস মিত্র, অভিষেক ব্যানার্জি‘ চিন্ময়, পাপাই দত্ত— গুরুগ্রামের বাঙালিদের অনেকে বুক ভরে নিশ্বাস নেওয়ার অবকাশ পেলেন বর্ষবরণ উৎসবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *