আমাদের ভারত, ৮ জুন: সোমবারই প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন আগামী ২১ জুন থেকে সমগ্র দেশবাসীকে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। ভ্যাকসিন দেওয়ার দায়িত্ব কেন্দ্র সরকারের। টিকা বন্টন নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের সংঘাত চলছিল তার মধ্যে এই বড় সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্র সরকার। টিকা বরাদ্দ ও বন্টন নিয়ে এবার কেন্দ্রের তরফে আরও এক নতুন সংশোধিত নির্দেশিকা জারি করা হলো।
নয়া নির্দেশিকায় বলা হয়েছে কোন রাজ্যকে কত ডোজ ভ্যাক্সিন পাঠানো হবে সেটা ওই রাজ্যের জনসংখ্যা, সংক্রমণ ও টিকাকরণ প্রক্রিয়ার হারের উপর দাঁড়িয়ে নির্ধারণ করা হবে। নির্দেশিকার ভ্যাকসিন নষ্টের ঘটনাগুলোকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে ভ্যাকসিন নষ্ট করলে তার প্রভাব পড়বে পরবর্তী বরাদ্দের ক্ষেত্রেও।
বেশ কিছুদিন ধরেই রাজ্য কেন্দ্রের মধ্যে ভ্যাকসিন নষ্ট হওয়া নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছিল। মে মাসে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের প্রকাশ করা পরিসংখ্যানে দেখা গেছে বিভিন্ন রাজ্যে ব্যাপক হারে ভ্যাকসিন নষ্ট হয়েছে। সেই তালিকা অনুযায়ী ৩৭% শতাংশ ভ্যাক্সিন নষ্ট হয়েছে ঝাড়খন্ডে, ছত্রিশগড়ে ৩০%, তামিলনাড়ুতে ১৫.৫%, জম্মু-কাশ্মীরে ১০.৮%, মধ্যপ্রদেশে ১০.৭% । জাতীয় গড় ৬.৩%।
সোমবারই আঠারো বছরের ঊর্ধ্বদের বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন নরেন্দ্র মোদী। ২১ জুন থেকে এই টিকাকরণ প্রকল্প কার্যকর হবে। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট টিকাকরণ নীতি নিয়ে সুষ্ঠু পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্রকে। বিরোধীর অনেক আগে থেকেই বাজেটে ভ্যাকসিনের জন্য বরাদ্দ ৩৫ হাজার কোটি টাকা দিয়ে কেন বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে না তা নিয়ে সরব হয়েছিল। এরমধ্যেই মোদী সরকার সিদ্ধান্ত নেয় , এবার থেকে রাজ্য সরকার গুলিকে আর ভ্যাকসিন কিনতে হবে না। উৎপাদক সংস্থার কাছ থেকে কেন্দ্র সরকার ভ্যাকসিন কিনে রাজ্য সরকারের হাতে তুলে দেবে। তবে ভ্যাকসিন নষ্ট করলে তার প্রভাব পড়বে পরবর্তী বরাদ্দের উপর।

